পশ্চিমবঙ্গের ফালাকাটা বিধানসভায় আয়োজিত পরিবর্তন সংকল্প সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি skচ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আজ পরিবর্তন চাইছেন এবং বর্তমান সরকারের প্রতি ক্ষোভ দিন দিন বেড়ে চলেছে।
বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ কোনও ব্যক্তির নয়, এটা এখানকার জনগণের। মানুষ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে “মুক্তি” চাইছেন বলেই মন্তব্য করেন সাংসদ। কেন্দ্রের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল থেকে রাম মন্দির স্থাপন—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের সাফল্য প্রমাণ করে বিজেপি চাইলে যেকোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেই সূত্র ধরেই তিনি দাবি করেন, এবার রাজ্যের ভোটে তৃণমূল সরকারকে বিদায় জানাবে বিজেপি।
অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে বিপ্লব দেব অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তাঁর কথায়, ২০০২ সালের পরে যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছেন, তাদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো হবে। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি যদি এতই সহানুভূতি থাকে, তাহলে তাঁরও সেখানে যাওয়া উচিত।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও উঠলো তীব্র সমালোচনা। সাংসদের বক্তব্য, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে মহিলারা নিরাপদ নন। তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে নারী পাচারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া সাংসদ অভিযোগ তোলেন, পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতাও চাপে রয়েছে। বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ পূজা-পাঠ করতে বাধা পাচ্ছেন এবং সরস্বতী পুজো বন্ধ করার প্রচেষ্টা হয়েছে বলেও তাঁর দাবি।
সভায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গরিবদের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র যে প্রকল্প দেয়, তা রাজ্যে ঠিকমতো বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর ভাইপোর কাটমানি সংস্কৃতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সুবিধা আটকে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সাংসদ।
সভা শেষে বিপ্লব দেব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে আহ্বান জানান।