পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাজ্য-স্তরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহিলাদের আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নের পথে বর্তমান সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলেই আজ রাজ্যে ১ লক্ষ ৮ হাজার ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ৫৪ হাজার ৩২৩টি মহিলা স্বনির্ভর দল সফলভাবে কাজ করছে, যা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও দৃঢ় করেছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনজাতি সমাজের উন্নয়নকে লক্ষ্য করে সরকার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে এগোচ্ছে। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য একাধিক প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে।ভালো কাজ করতে গেলে কিছু ত্রুটি ঘটতেই পারে বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রুটিকে অতিক্রম করে দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষ্যে একটি স্মারক ফোল্ডার এর আবরণ উন্মোচন করেন। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের উন্নয়নযাত্রা নিয়ে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি রাজ্যের মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা তাঁর ভাষণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, উৎকৃষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার স্বীকৃতি হিসেবে ত্ৰিপুরা ‘পি.এম. জনমন’ পুরস্কারে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্যের সম্মান অর্জন করেছে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করলেই উন্নয়নের গতিপথ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী—কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ, পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, বিভিন্ন দপ্তরের সচিববৃন্দ, উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি.কে. চক্রবর্তী। তিনি বলেন, পূর্ণরাজ্য দিবস শুধুমাত্র একটি স্মৃতিচারণ নয়—এটি রাজ্যের অগ্রযাত্রার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার ও পরিকল্পনার ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠল এই অনুষ্ঠানের বক্তব্যে। মহিলাদের শক্তিকরণ, জনজাতি উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং অবকাঠামো ব্যবস্থার বিকাশ—এই চার ক্ষেত্রকেই আগামী দিনের উন্নয়ন-নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরলেন অতিথিবৃন্দ।