বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সফরে সিঙ্গুরে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিল্প বিতর্কে দীর্ঘদিন আলোচিত এই সিঙ্গুরেই ১৮ বছর পর বিজেপির সভা ঘিরে সকাল থেকেই ছিল চরম তৎপরতা। রাজনৈতিক ও সরকারি—দু’ধরনের কর্মসূচিতেই অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি সিঙ্গুরে পৌঁছন। সরকারি সভামঞ্চে তাঁর প্রবেশ ঘটে দুপুর ৩টা ১ মিনিটে।
প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই সভামঞ্চে বক্তব্য রাখেন বিজেপি সাংসদরা। দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এরপর দুপুর ৩টা ২ মিনিটে বক্তব্য রাখেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি দিনটিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করে জয়রামবাটি-ময়নাপুর রেল প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর সঙ্গে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।
দুপুর ৩টা ১২ মিনিটে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল ঘোষণা করেন, সিঙ্গুরের মাটি থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোট ৮৩০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। দুপুর ৩টা ১৪ মিনিটে সেই প্রকল্পগুলির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঘোষিত প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—
- তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস (কলকাতা–বারাণসী, সাঁতরাগাছি–তাম্বরম, হাওড়া–আনন্দবিহার)
- জয়রামবাটি–ময়নাপুর নতুন রেললাইন
- কলকাতায় ইলেকট্রিক কেটামেরন পরিষেবা
- বলাগড়ে আধুনিক পোর্ট গেট সিস্টেম
সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট আর্থিক মূল্য ৮৩০ কোটি টাকা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুপুর ৩টা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীর সঙ্গে বাংলাকে রেলপথে আরও মজবুতভাবে যুক্ত করা হবে। তিনি জানান, বাংলা পেয়েছে মোট ৯টি অমৃত ভারত ট্রেন এবং দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসও। রেল পরিষেবায় এটিকে বড় প্রাপ্তি বলেই উল্লেখ করেন তিনি।
বলাগড়ের সম্প্রসারিত বন্দরের ফলে নতুন লজিস্টিক হাব তৈরি হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ইলেকট্রিক কেটামেরনের মাধ্যমে জলপথে যাতায়াত ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—‘বিকশিত ভারতের জন্য বিকশিত পূর্ব ভারত’—এই ভাবনাতেই বাংলায় উন্নয়ন ও লগ্নির রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।