রাজ্যের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ–নীতিকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক তরজা চরমে। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্থায়ী বেতন ও চাকরির অধিকার সুনিশ্চিত করতে সরকার নিষ্ক্রিয় থেকেছে।প্রবীরবাবু অভিযোগ করেন, ৮ জানুয়ারি মাননীয় উচ্চ আদালত পুরোনো এবং বর্তমান—উভয় সরকারের আমলে নেওয়া নিয়োগ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কংগ্রেসের মতে, ২০০১ এবং ২০০৪ সালে চালু হওয়া স্থির বেতন ও পাঁচ বছরের চুক্তিভিত্তিক চাকরির নীতি ছিল শ্রমিক–স্বার্থের পরিপন্থী এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রহণযোগ্য।কংগ্রেসের বক্তব্য, বহু শিক্ষক–কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে স্থির বেতনে কাজ করলেও নিয়মিত কর্মীর মতো বেতনক্রম, বকেয়া ডিএ ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই কর্মীদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব সরকারের উপরই ছিল।সাংবাদিক সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ রেখে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের প্রবণতা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রকে দুর্বল করেছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের চাকরির সুযোগও কমে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস জানায়—রাজ্য সরকার কেন্দ্রের অনুমোদনের অজুহাত দেখিয়ে নতুন পদ সৃষ্টি করেনি, অথচ অতীতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যয় করতে কোনো বাধা অনুভব করেনি।কংগ্রেসের দাবি, অবিলম্বে স্থায়ী নিয়োগ চালু করতে হবে, সম্পূর্ণ বেতনক্রম ও বকেয়া ডিএ প্রদান করতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি না মানলে রাস্তায় নেমে বৃহত্তর গণআন্দোলনের সূচনা করার হুঁশিয়ারিও দেন মুখপাত্র।