আবারও আক্রান্ত হলেন একজন সাংবাদিক। পেশাগত কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হলেন আগরতলা প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক মৃনাল দেবনাথ। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ, বড়দোয়ালী চৌধুরীমিল এলাকার কাছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় আচমকাই চারজন দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মৃনাল দেবনাথের উপর হামলা চালায়। অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। আচমকা এই হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। তবে কোনওরকমভাবে প্রাণে বেঁচে যান এবং পরে সহকর্মীদের সহায়তায় আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।ঘটনার পর সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা। অভিযোগ, হামলার পরপরই স্থানীয় এডিনগর থানার ওসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি। সময়মতো পুলিশের সাহায্য না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আক্রান্ত সাংবাদিক। পুলিশের এই ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মত সাংবাদিক মহলের।এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আগরতলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন কর্মরত সাংবাদিকের উপর এভাবে প্রাণঘাতী হামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।আগরতলা প্রেসক্লাব আরও জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এলাকার বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার দৃষ্টিতেও আনা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে হস্তক্ষেপ করে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এই ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বারবার সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে যুক্ত মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাংবাদিক সংগঠনগুলি বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।