ত্রিপুরা প্রদেশ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে দলের সর্বস্তরের কার্যকর্তাদের সতর্ক করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এক ব্যক্তি নিজেকে প্রদেশ বিজেপির “ভাবী সভাপতি” হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও মণ্ডলে সফর করছেন এবং দলীয় কার্যকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এই কার্যকলাপের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বিষয়টি নজরে আসার পর প্রদেশ বিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি কিংবা অন্য যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন ও নিয়োগ একটি নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর বাইরে গিয়ে কেউ নিজেকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত বা ভবিষ্যৎ পদাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিলে তা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে।দলীয় সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ শুধুমাত্র বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং তা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত গুরুতর অপরাধের শামিল। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় আইন ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।প্রদেশ সভাপতির নির্দেশক্রমে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সকল জেলা সভাপতি, মণ্ডল সভাপতি এবং সাধারণ কার্যকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো রকম অপপ্রচার, ভ্রান্ত তথ্য প্রচার কিংবা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যকলাপে অংশগ্রহণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ভুয়ো পরিচয়ধারী ব্যক্তি বা এ ধরনের কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক কার্যকর্তার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভ্রান্তিকর প্রচার বা ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত কোনো উদ্যোগ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর।এ প্রসঙ্গে ত্রিপুরা বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি একটি সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক দল। দলের প্রতিটি কার্যকর্তা গঠনতন্ত্রের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে কাজ করেন। আগামী দিনেও আমাদের লক্ষ্য দলকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করা। শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রেখেই সেই লক্ষ্যে এগোতে হবে।”তিনি আরও জানান, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন বা নিজস্ব পরিচয় নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করেন, তাহলে দলীয় আইন অনুযায়ী যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।দলের পক্ষ থেকে সকল কার্যকর্তা ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকেন এবং কোনো অযাচিত গুজব বা অপপ্রচারে কান না দেন। সংগঠনের স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই দলের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠনের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের কড়া বার্তা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন বা নির্বাচনের সময় ভুয়ো পরিচয় ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা দেখা দিলে তা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ত্রিপুরা বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দলীয় গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা বা বিভ্রান্তিমূলক কার্যকলাপের জন্য সংগঠনের ভেতরে কোনো জায়গা নেই।