আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক তরুণীর জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেন। হৃদপিণ্ডের পেরিকার্ডিয়ামের ভেতরে ঢুকে থাকা গুলি সফলভাবে অপসারণ করে চিকিৎসকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।খুমুলুঙ এডিসির সদর দপ্তর এলাকার শ্যামানন্দ পাড়ার বাসিন্দা দীপালি দেববর্মা (৩০) গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ গুরুতর আহত অবস্থায় জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর ভাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এসে জানান, অসাবধানতাবশত বন্দুক থেকে বের হওয়া একটি গুলি দীপালির শরীরে লাগে।হাসপাতালে আনার পরপরই জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন। এরপর দ্রুত সিটিভিএস ও ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি (আইআর) বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষজ্ঞ সিটিভিএস সার্জন ডা. কনক নারায়ণ ভট্টাচার্য রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।ডা. ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে সিটিভিএস ও আইআর বিভাগের দশ সদস্যের একটি দক্ষ সার্জিক্যাল টিম ক্যাথল্যাবের ফ্লুরোস্কোপি প্রযুক্তির সাহায্যে হৃদপিণ্ডের পেরিকার্ডিয়ামের মধ্যে বিদ্ধ হয়ে থাকা ধাতব গুলিটি চিহ্নিত করেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা অপসারণ করেন। অস্ত্রোপচারটি সম্পূর্ণ সফল হয়।বর্তমানে দীপালি দেববর্মা সম্পূর্ণ সংকটমুক্ত। তাঁকে আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের মতে তাঁর শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে।এই জটিল অস্ত্রোপচারে ডা. কনক নারায়ণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ছিলেন কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. রিমঝিম চাকমা, ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট সুদীপ্ত মণ্ডল। ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জয়দীপ চক্রবর্তী, অভিজিৎ রায়, অন্নবাহাদুর জমাতিয়া, সৌরভ শীল ও মৌসুমী দেবনাথ। ক্যাথল্যাব টেকনিশিয়ান ছিলেন সঞ্জয় ঘোষ ও অভিজিৎ পাল। নার্সিং টিমে ছিলেন প্রাণকৃষ্ণ দেব, সৌরভ ত্রিপুরা ও দেবব্রত দেবনাথসহ আরও অনেকে।এই সাফল্যে জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা ও তৎপরতা আবারও প্রমাণিত হলো বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মহল।