ত্রিপুরা রাজ্যে অবৈধ গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক অভিযান শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের নেশামুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে গাঁজা চাষ নির্মূল করার উদ্দেশ্যে একের পর এক অভিযানের আয়োজন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রবিবার ভোরে যাত্রাপুর থানার তত্ত্বাবধানে এক বিশাল ‘মেগা ডেস্ট্রাকশন অভিযান’ পরিচালনা করা হয়।এই অভিযানে অংশ নেন ১৫৫ জনের একটি যৌথ বাহিনী, যার নেতৃত্ব দেন যাত্রাপুর থানার ওসি সিতিকণ্ঠ বর্ধন। ভোর ৬টা থেকেই দুই পৃথক স্থানে শুরু হয় অভিযান। প্রথম স্থানে ছিল দক্ষিণ কালীখলা এডিসি ভিলেজের ভদ্রা বাড়ি পাড়া সংলগ্ন বনাঞ্চল, যেখানে ব্যাপক আকারে গাঁজা চাষ করা হচ্ছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল গরমছড়া এলাকার গভীর অরণ্য, যেখানে আরও অনেক জমিতে অবৈধ গাঁজা চাষ চলছিল।অভিযানে ৬৯ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ, ১১ ব্যাটালিয়নের টিএসআর, ১৪ ব্যাটালিয়নের সিএ টিএসআর, ওমেন টিএসআরসহ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের পরিসরে ৪৫টি গাঁজা চাষের প্লট ধ্বংস করা হয়, এবং প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার গাঁজা গাছ কেটে ফেলা হয়। পুলিশের ধারণা, এই চাষের আবাদ ছিল প্রায় ১৫ থেকে ৫০ একর জমিতে।যদিও অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ ও বাহিনীর সদস্যরা কঠোর পদক্ষেপ নেন, অভিযানে অংশ নেওয়া চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে, পুলিশ প্রশাসন তাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে জড়িতদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।ওসি সিতিকণ্ঠ বর্ধন জানিয়েছেন, “এটি আমাদের থানার সবচেয়ে বড় অভিযান, এবং এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, কিছু এলাকায় লোকসমাগম হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।ত্রিপুরা পুলিশ রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অবৈধ গাঁজা চাষ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও তীব্র হবে। রাজ্যজুড়ে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এই অভিযান এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।গাঁজা চাষের বিলুপ্তি, ত্রিপুরার দিকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পদক্ষেপ