ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (টিএসইসিএল) নদীর স্রোত ব্যবহার করে হাইড্রোকাইনেটিক টার্বাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের ১০টি স্থান ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।শনিবার বনমালীপুরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সুপার ইসিবিসি (Energy Conservation Building Code) ভবনের ভূমিপূজা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই তথ্য জানান রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে রাজ্য ও সমাজ সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়বে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে। বনমালীপুরে নির্মিতব্য সুপার ইসিবিসি ভবনের জন্য প্রায় ১২.৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন আরও পাঁচটি ভবন নির্মাণাধীন থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই ধরনের ভবন একমাত্র ত্রিপুরাতেই নির্মিত হচ্ছে। ভবনটির মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৭৮ মেগাওয়াট। ২০৩১ সালের মধ্যে এই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যদিও মাঝেমধ্যে ট্রিপিংয়ের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—বর্তমানে গ্রাহকের সংখ্যা ১০.৫৭ লক্ষ, যেখানে ২০১৮ সালের আগে তা ছিল ৭.২১ লক্ষ। এটি রাজ্যের দ্রুত উন্নয়নের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।সৌর শক্তির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনার আওতায় রাজ্যের ৫ লক্ষ পরিবার যদি ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপন করে, তবে প্রতিদিন প্রায় ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এর ফলে রাজ্য শক্তিতে স্বনির্ভর হবে, অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, জিডিপি বাড়বে এবং মানুষের ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পাবে।এছাড়াও তিনি জানান, বিদ্যুৎ নিগম রাজ্যের ২০০০টি সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে প্রায় ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সৌর শক্তির কোনো সীমা নেই। বর্তমানে রাজ্য মূলত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু এই উৎস ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ খাতে বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।তিনি জানান, ডুম্বুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজ্যের। এবার নদীর স্রোত ব্যবহার করে হাইড্রোকাইনেটিক টার্বাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে চাকমাঘাট, মহারাণী, ডুম্বুর, নতুন বাজার, কলসি, মনু, কুলাই, ফেনী, ধলাই নদী এবং অম্পি-লক্ষীপুর—এই ১০টি স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, কর্পোরেটরগণ ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।