তিন দফা দাবিকে সামনে রেখে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠন ‘ত্রিপুরা গেরিলা রিটার্নড ডিমান্ড কমিটি’-র ডাকে রবিবার গভীর রাত থেকে আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়।
আচমকা এই অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বড়মুড়া এলাকায় পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ বহু যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে।
চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের দাবির মধ্যে অন্যতম হল ২৩ কোটি টাকার বিস্তৃত পুনর্বাসন প্রকল্প অবিলম্বে পুনরায় চালু করা এবং মূলস্রোতে ফিরে আসা প্রাক্তন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মুলতুবি মামলা প্রত্যাহার করা।
অবরোধে অংশ নেওয়া এক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা ১৯৯৮ সালের আগেই আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এসেছিলেন।
তাঁর দাবি, সঠিক পুনর্বাসন ও স্থায়ী বসতির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২২ মে মোট ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তা কার্যকর ছিল।
কিন্তু সরকার পরিবর্তন এবং পরবর্তীকালে কোভিড পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনও অগ্রগতি বা সরকারি আপডেট পাওয়া যায়নি।তিনি আরও বলেন, বরাদ্দকৃত ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ২২ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে।
অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে পুনর্বাসন প্রকল্প পুনরায় চালুর জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন। একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর রাবার মিশনের অধীনে টানা তিন বছর প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে চললেও চলতি বছরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। রাবারের চারা সরবরাহ করা হলেও চারাগুলি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বেড়া দেওয়ার অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।
বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সড়ক অবরোধ চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।