এক সময় খাদ্য সামগ্রীর জন্য প্রতিবেশী রাজ্য ও দেশের উপর নির্ভরশীল থাকতে হলেও বর্তমানে ত্রিপুরা ধীরে ধীরে খাদ্যে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাছ উৎপাদনে রাজ্যের মৎস্যচাষিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শুক্রবার মনুবাজার বসুন্ধরা বনচেতনা কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত দক্ষিণ জেলাভিত্তিক মৎস্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা জানান সমবায় ও সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মাছচাষিরা আজ আমাদের গর্ব। ত্রিপুরার সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় মাছের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। মাছচাষের মাধ্যমে বর্তমানে রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতী স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। তিনি আরও জানান, মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে মাছচাষিদের জন্য পুকুর খননের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক মাছচাষ পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে এবং বিনামূল্যে মাছের পোনা ও মাছের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করে তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সন্তোষ দাস এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক হেমন্ত দেববর্মা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, সাতচাঁদ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রভাত লোধসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।
জেলাভিত্তিক এই মৎস্য মেলায় জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে আগত মোট ২০ জন মৎস্যচাষি সুলভ মূল্যে মাছ বিক্রি করেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মেলার শেষে সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।