রাজ্যের সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সুখবর। আগামী ২ জানুয়ারি থেকে আগরতলার হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হতে চলেছে ৩৪তম আগরতলা বইমেলা। এই উপলক্ষে বুধবার আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে স্টিয়ারিং কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ধিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বইমেলার প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয় এবং আয়োজন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, স্টেট কালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সবুজ চক্রবর্তী, বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, সাব-কমিটির কনভেনার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা।বৈঠকে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। স্টল বিন্যাস, মণ্ডপসজ্জা, থিম প্যাভিলিয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দর্শকদের সুবিধা—সব দিকই পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি, বইমেলার সময়সূচি নিয়েও আলোচনা চলে। প্রকাশক ও বই বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে সময়সূচি কিছুটা এগিয়ে আনার প্রস্তাব উঠলেও, আপাতত দুপুর ১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চালু রাখার সিদ্ধান্তেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।বৈঠক শেষে মেয়র দীপক মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, স্টিয়ারিং কমিটির আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট। তাঁর কথায়, বইমেলার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কাজ এগোচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও সাব-কমিটি বা স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ডাকা হতে পারে বলেও তিনি জানান।মেয়র আরও বলেন, এবছর বাইরের রাজ্য থেকে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সরকারি স্তরের হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বইমেলার সামগ্রিক নকশা ও অফিসারদের নামফলক নিয়েও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আয়োজকদের মতে, আগরতলা বইমেলা রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রতি বছর বই বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিসম্মেলন, সাহিত্য আলোচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে মেলার আকর্ষণ বাড়ে।এবছর প্রকাশক ও স্টলের জন্য আবেদনের সংখ্যা অতীতের রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। রাজ্যের বাইরে থেকেও বহু প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা আগরতলা বইমেলার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত।সব মিলিয়ে, ৩৪তম আগরতলা বইমেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় করে তুলতেই স্টিয়ারিং কমিটির এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আয়োজকরা। পাঠক ও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে নেওয়া পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে এবারের বইমেলা রাজ্যের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এমনটাই আশা।