কুমারঘাট থানার অন্তর্গত আম্বেদকর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার ঘটে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আচমকা এই অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অবসরপ্রাপ্ত ফরেস্ট গার্ড অনিল আচার্যের বাড়ির মোট ১৪টি ঘর। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গ্রাস করে নেয় বসতবাড়ির একের পর এক অংশ, ফলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকাজুড়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন এতটাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে পরিবারের সদস্যরা কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুনের তীব্রতায় বাড়ির আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, নগদ অর্থ ও গৃহস্থালির যাবতীয় সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কুমারঘাট, পেচারথল এবং কাঞ্চনবাড়ি দমকল কেন্দ্র থেকে আসা মোট তিনটি দমকল ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকল বাহিনীকে সহযোগিতা করেন। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে সবকিছু শেষ হয়ে যায়।প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটিরও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসেব প্রকাশ করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়ে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক তহশিলদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্য কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধিকে এলাকায় দেখা যায়নি। প্রশাসনের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।এই অগ্নিকাণ্ডে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে অনিল আচার্যের পরিবার। পরিবারে রয়েছেন অনিল আচার্য, তাঁর স্ত্রী এবং তিন কন্যা। কন্যাদের মধ্যে দুইজন বিবাহিত। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও জীবনের সমস্ত অর্জন এক মুহূর্তে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।এছাড়াও বাড়ির একটি অংশে সাতজন সদস্যের একটি ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাস করত। অগ্নিকাণ্ডে তাদের ঘরবাড়ি ও যাবতীয় জিনিসপত্রও পুড়ে যায়। ফলে ওই পরিবারটিও বর্তমানে চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। আশ্রয় ও খাদ্যের সংকটে পড়েছেন তারা।ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাময়িকভাবে আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সরকারি সহায়তা ছাড়া এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব।এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হবে। রিপোর্টের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ফের একবার গ্রামাঞ্চলে অগ্নি-নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।