ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিজেপির জনজাতি মোর্চার এক সভায় মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ওই সভায় তিপরা মথা দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী যে ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। রবিবার প্রকাশ্যে ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বরখাস্তের দাবি তোলেন।
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, মন্ত্রীর ভাষা শুধু রাজনৈতিক শালীনতা লঙ্ঘন করেনি, বরং তা হিংসা ও ভয় প্রদর্শনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তিপরা মথা দল যদি কোনো বেআইনি বা অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেও থাকে, তবে সরকার আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে প্রকাশ্য সভা থেকে হুমকিমূলক ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও জানান, ওই সভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, দুইজন মন্ত্রী, বিজেপির প্রদেশ সভাপতি এবং একজন সাংসদের উপস্থিতি ছিল। এমন উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সামনে দাঁড়িয়ে একজন মন্ত্রীর মুখে এ ধরনের বক্তব্য শোনা রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত বলেই মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বক্তব্যে সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজ বা উন্নয়ন প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা ছিল না। বরং বক্তব্য জুড়ে ছিল হুমকি, প্রতিশোধের ভাষা এবং হিংসাত্মক শব্দচয়ন। তিনি দাবি করেন, “দেখে নেওয়া হবে”, “প্রতিশোধ নেওয়া হবে”, “ছাই করে দেওয়া হবে”—এই ধরনের শব্দের পাশাপাশি অঙ্গভঙ্গি সহ “পোল্ট্রি মোরগের মতো ছিঁড়ে ফেলা হবে” বলার মতো মন্তব্য করা হয়েছে, যা চরমভাবে নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।
বিরোধী দলনেতার মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজে অশান্তি ও হিংসা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও আইন ভাঙার প্রবণতা বাড়তে পারে।
জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের নজরে আনা হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এক মুহূর্তের জন্যও মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মাকে মন্ত্রিসভায় রাখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক শালীনতার প্রশ্ন নয়, বরং আইন ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার বিষয়।
এছাড়াও তিনি সভাস্থলে উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ওই সময় উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের উচিত ছিল নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। তা না হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের বক্তব্য ও আইন ভাঙার প্রবণতা আরও বেড়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি এই ঘটনার পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে সেটিও একপ্রকার অপরাধের সামিল হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজ্যের শান্তি, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বজায় রাখতে হলে এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সরকার কী অবস্থান নেয়, তার ওপরই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ অনেকটাই নির্ভর করবে।