মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে বলিউডের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’। অ্যাকশন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাস্তব-অনুপ্রাণিত গল্পের মিশেলে তৈরি ছবিটি যেমন দর্শকের নজর কাড়ছে, তেমনই জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্কের। বিশেষ করে পাকিস্তানে ছবিটি ঘিরে মতভেদ এখন তীব্র আলোচনার বিষয়।ছবিতে পাকিস্তানের লিয়ারি অঞ্চলে অতীতের গ্যাংস্টার রাজনীতি এবং পাকিস্তান–ভারত সম্পর্কের চাপানউতর তুলে ধরা হয়েছে। এই কারণেই প্রথম থেকেই একদল দর্শক অভিযোগ করেন যে ছবিটি পাকিস্তানকে নেতিবাচকভাবে দেখিয়েছে। কারও কারও মতে এটি সরাসরি পাকিস্তান-বিরোধী।কিন্তু এবার পাকিস্তান থেকেই উঠে এসেছে ভিন্ন মত।পাকিস্তানের জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী ও চিত্রসমালোচক ‘ব্রেকিংব্যাড’ সম্প্রতি একটি পোস্টে লিখেছেন যে ছবিটি অসাধারণ। তার কথায়, এই ছবি অবশ্যই দেখা উচিত। অভিনয় এত ভালো হয়েছে যে বিশ্বাস করা কঠিন। এমন মানের ছবি সচরাচর দেখা যায় না।আরেক পাকিস্তানি মন্তব্যে জানান, তাঁর মতে ছবিতে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে খাটো করা হয়নি। বরং ইতিহাস এবং বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। আরও একজন দর্শক লিখেছেন, তিনি ছবিটি খুব উপভোগ করেছেন এবং বিশেষ করে রণবীর সিংহের অভিনয় তাঁর সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তাঁর মতে, খোলা মন নিয়ে ছবিটি দেখলে যে কারও ভালো লাগবে।তবে সব প্রতিক্রিয়া কিন্তু ইতিবাচক নয়।পাকিস্তান পিপলস পার্টির মুখপাত্র এবং সিন্ধ টাস্ক ফোর্সের সদস্য সুমেতা আফজল সইদ অভিযোগ করেছেন যে ছবিতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, পিপিপি দলের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান ছবিতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।বালোচিস্তান থেকেও আপত্তির সুর শোনা গেছে। এক বালোচ মানবাধিকারকর্মী অভিযোগ করেন যে ছবিতে বালোচ জনগোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে বালোচিস্তানের সম্পর্কও পক্ষপাতদুষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।ফলে একদিকে পাকিস্তানের সাধারণ দর্শকদের প্রশংসা, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আপত্তি—দুটিই পাশাপাশি চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তাই ‘ধুরন্ধর’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।ছবির নির্মাতারা দাবি করেছেন যে ‘ধুরন্ধর’ কোনও দেশকে লক্ষ্য করে বানানো হয়নি। গল্পের প্রয়োজনে বাস্তব ঘটনার ছায়া নেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিনোদন এবং মানবিক টানাপোড়েন দেখানো। তবুও সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে সফল হওয়ার পাশাপাশি তৈরি করেছে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার নতুন পরিসর। কেউ একে প্রশংসা করছেন তার সাহসী গল্প ও অভিনয়ের জন্য, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন তার উপস্থাপনা নিয়ে।