ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের প্রতিটি কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডেটাবেস তৈরির লক্ষ্যে কৃষক রেজিস্ট্রি গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, এই রেজিস্ট্রি কেবল একটি তথ্যভাণ্ডার নয়; আধুনিক, কার্যকর এবং স্বচ্ছ কৃষি ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।মন্ত্রী বলেন, কৃষি, উদ্যানপালন, বিএসি, সেক্টর অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সরকারি সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলককৃষিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পিএম–কিষান (PM-KISAN) সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যেকোনো আর্থিক সহায়তা পেতে কৃষক রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক হবে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা সঠিক সময়ে সঠিক ভর্তুকি বা অর্থ সহায়তা পাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, রেজিস্ট্রির মাধ্যমে যাচাইকৃত পরিচয় তৈরি হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রদান নিশ্চিত হবে, যা স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করবে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের জমির তথ্য আধার–এর সঙ্গে যুক্ত থাকায় ডেটা পুনরাবৃত্তি বা ভুল তথ্যের ঝুঁকি থাকবে না। ফলে ভর্তুকি, কৃষি ঋণ, ফসল বিমা, সার–বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।ডিজিটাল কৃষির নতুন অধ্যায়কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষক রেজিস্ট্রি হবে রাজ্যের ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার মূলভিত্তি।
এর সঙ্গে সয়েল হেলথ কার্ড, ফসল সমীক্ষা, বাজার সংযোগ, কৃষি পরামর্শ পরিষেবার তথ্য যুক্ত করা হবে। ফলে কৃষকেরা সহজেই তাদের জমির অবস্থা, মাটির গুণমান, ফসলের বাজারদর ও কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ দ্রুত পেতে পারবেন।তিনি জানান, রেজিস্ট্রি সম্পূর্ণ হলে কৃষকেরা আরও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। উৎপাদন বাড়বে, খরচ কমবে এবং কৃষিপণ্যের বাজার মূল্য নির্ধারণেও সুবিধা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ অ্যাগ্রি–টেক খাতে নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেবে। কারিগরি সহায়তা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে, যা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।ইউনিক ফার্মার আইডিকৃষক রেজিস্ট্রির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন ইউনিক ফার্মার আইডি।
এই পরিচয়ের মাধ্যমে প্রতিটি কৃষকের জমির পরিমাণ, ফসলের ধরণ, সেচব্যবস্থা, কৃষি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা—এসব তথ্য এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে।সরকারও এই তথ্যের ভিত্তিতে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে। কোন এলাকায় কোন ফসল বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা, কোন এলাকায় সেচের প্রয়োজন, কোথায় কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র বাড়ানোর দরকার—সবকিছু আরও বিস্তৃতভাবে জানা যাবে।
সময় ও খরচ বাঁচাবেরেজিস্ট্রি চালু হলে কৃষকেরা এক জায়গায় সব তথ্য ও পরিষেবা পেয়ে যাবেন, ফলে বারবার দপ্তরে যাওয়া বা কাগজপত্র জমা দেওয়ার দরকার হবে না। এতে তাদের সময় ও খরচ উভয়ই কমবে।মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ করছে না; বরং কৃষকদের আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তুলছে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, ফসল পরিবর্তন, জল ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই তারা উপকৃত হবেন।
কৃষকদের উদ্দেশে আহ্বানদ্রুত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার জন্য রাজ্যের কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি কৃষকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চাবিকাঠি। আমরা যদি সবাই মিলে ডিজিটাল কৃষিকে গ্রহণ করি, তাহলে ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্র আরও উচ্চতায় পৌঁছবে।তিনি কৃষক, গ্রাম পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে সমন্বয় করে দ্রুত রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন।