২০২৬ সালের এডিসি নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের জনজাতি রাজনীতিতে নতুন করে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বিজেপি জনজাতি মোর্চার নেতা ও দলের রাজ্য সম্পাদক বিপিন দেববর্মা দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তিপরা মথার পরাজয় নিশ্চিত। তাঁর মতে, মথা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেই বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা বাড়ছে। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিপিন দেববর্মা এই অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, “যদি কোনও দল শক্তিশালী থাকে, তবে তারা এভাবে আক্রমণ করতে যায় না। মথার এই আচরণই নির্দেশ করছে যে তারা সাধারণ মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে।”আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে বিপিন দেববর্মা আরও জানান, আগামী ১৩ ডিসেম্বর আগরতলার রবীন্দ্র ভবনের সামনে বিজেপি জনজাতি মোর্চার উদ্যোগে একটি বড়সড় মেগা যোগদান সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক জনজাতি মানুষ যোগ দেবেন বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর দাবি, প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি জনজাতি যুবক-যুবতী, সমর্থক ও কর্মী ওই দিন বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “জনজাতি সমাজ এখন বিকল্প শক্তি হিসেবে বিজেপিকেই সামনে রাখছে। এই সমাবেশই প্রমাণ করবে যে মানুষ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে দাঁড়াতে চাইছে।”বিপিন দেববর্মার অভিযোগ, তিপরা মথা ক্ষমতায় থাকার পর থেকেই একাধিক এলাকায় বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তিনি দাবি করেন, মথা এখন সংগঠন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, ফলে রাজনৈতিক চাপে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলাকে হাতিয়ার বানাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “গন্ডামি করে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। তিপরা মথার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাই আতঙ্কে পড়েই তারা আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে।”তিনি আরও জানান, বিজেপি এসব হামলাকে ভয় পায় না এবং গণতান্ত্রিক পথেই লড়াই চালিয়ে যাবে। “আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করি। কোনও উস্কানি বা সহিংসতার পথে হাঁটব না,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এডিসি নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনজাতি রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, শক্তি প্রদর্শন এবং যোগদান অনুষ্ঠান এখন বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠছে। তিপরা মথা ও বিজেপি—উভয় পক্ষই জনজাতি সমাজের সমর্থন পেতে মরিয়া। মথার দাবি, এডিসি-তে তাদের অবস্থান মজবুত, অন্যদিকে বিজেপি বলছে, জনজাতি সমাজ উন্নয়নের স্বার্থে দলবদল করছে এবং আগামী নির্বাচনে তারা শক্তিশালী লড়াই দেবে।১৩ ডিসেম্বরের মেগা যোগদান সমাবেশকে কেন্দ্র করে তাই রাজনৈতিক মহলে উৎসুক নজর। জনজাতি সমাজের বড় অংশ কোন দিকে ঝুঁকছে—তার ইঙ্গিত এই সমাবেশেই মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।