তিপরা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো ও বর্তমান এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, অস্তিত্ব সংকট ঢাকতেই প্রদ্যোতের নেতৃত্বে ‘ওয়ান নর্থ ইস্ট’-এর মতো নতুন প্ল্যাটফর্মকে সামনে আনা হচ্ছে।
রেবতী ত্রিপুরার বক্তব্য, আগরতলার আস্তাবল ময়দানে ‘ওয়ান নর্থ ইস্ট’-এর নামে যে মঞ্চ তৈরি হয়েছিল, তা আসলে তিপরা মথার জনসভা হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। ওই সভা থেকেই প্রদ্যোত এবং উত্তর-পূর্বের কিছু আঞ্চলিক দলের নেতারা “উস্কানিমূলক বক্তব্য” রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর মতে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় বলেই প্রদ্যোত “এত বড় বড় কথা বলার সাহস” পাচ্ছেন।তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সাধারণত কয়েকটি ইস্যুকে সামনে রেখে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। যখন সেই কৌশল ব্যর্থ হয়, তখন নতুন নামে আরেকটি দল তৈরি করা হয়।
রেবতীর অভিযোগ—তিপ্রাল্যান্ড বা গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি তোলার পর এখন প্রদ্যোত নিজেই সেই ইস্যু “শব্দকোষ থেকে বাদ” দিয়ে দিয়েছেন।এডিসির প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়েও সরব হন রেবতী। তাঁর অভিযোগ, আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, সাংবিধানিক নিয়ম মানা হচ্ছে না, উন্নয়ন কেবল বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এডিসির আর্থিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ অডিট হওয়া জরুরি বলেও দাবি তোলেন তিনি।প্রদ্যোতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, “কংগ্রেসে থাকতে ভিন্ন কথা বলতেন, এখন অন্য কথা বলছেন—আর ১০–১৫ বছর পর হয়তো বলবেন তখনও ভুল হয়েছিল।”
পারিবারিক পরিচয় নিয়েও তোপ দাগেন তিনি—বাবা-মায়ের পরিচয় এড়িয়ে দাদুর নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন।ছোট ত্রিপুরাকে বিভক্ত করে নতুন রাজ্য গঠনের দাবি বা সংবিধানের নামে বিশেষ অধিকারের প্রস্তাবকে অবাস্তব বলেও অভিহিত করেন রেবতী ত্রিপুরা।
তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্যে উগ্রবাদ কার্যত নির্মূল হয়েছে, পরিকাঠামো উন্নয়ন বেড়েছে, ত্রিপুরা জাতীয় স্তরে গুরুত্ব পাচ্ছে। অথচ, আবারও রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।