রাজধানী আগরতলার শান্ত রাত হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন একদল যুবক শহরের বিভিন্ন এলাকায় উশৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হয়। শনিবার গভীর রাতে শালবাগান, গোরখাবস্তি ও শালিমীবাজার অঞ্চলে মদ্যপ অবস্থায় তারা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর এনসিসি থানার পুলিশ দ্রুত নেমে পড়ে অভিযানে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতের ঘটনা মোবাইলে ধারণ করা কিছু ভিডিও স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশের হাতে পৌঁছাতেই তদন্তে গতি আসে। ভিডিও বিশ্লেষণ ও টহল দলের তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে নয়জন যুবককে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটক যুবকরা ট্রাফিক বিভাগের স্থাপিত কনভেক্স মিরর, ট্রাফিক সিগন্যাল, স্পিড কন্ট্রোল সিগন্যালসহ বেশ কিছু সরকারি স্থাপনা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙচুর করেছে। পাশাপাশি রাস্তার ধারের সরকারি ফ্ল্যাগ, ব্যানার ও ফেস্টুন ছেঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভাঙচুর হওয়া সরকারি সামগ্রীর মোট মূল্য আনুমানিক দুই লক্ষ টাকা বলে জানায় পুলিশ।এনসিসি থানার ওসি প্রাজিত মালাকার বলেন, “শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় সতর্ক। ওই রাতে যুবকদের আচরণ শুধু সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি নয়—এটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রবিবার সকালে আটক যুবকদের আদালতে তোলা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানান। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ইন্সপেক্টর এদ বর্মন এনসিসি থানায় মামলা দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। শুনানি শেষে বিচারক নয়জন আসামিকে ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে জেল হেফাজতেই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।ঘটনার পর রাজধানীর নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলেছেন, শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় তারা আতঙ্কিত। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “যদি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন কাণ্ড ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ?”বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, শুধু পুলিশি ব্যবস্থা নয়—সমাজের তরুণদের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোও জরুরি। তারা মনে করেন, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি মানেই জনগণের সম্পদের ক্ষতি, আর এ ধরনের ঘটনা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব পক্ষেরই ভূমিকা প্রয়োজন।রাজধানী আগরতলায় গভীর রাতের এই তাণ্ডব আবারও দেখিয়ে দিল যে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।