রাজ্যের কৃষক ও কৃষিজীবী শ্রমিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ও সংকটের প্রেক্ষিতে কিষান কংগ্রেস আজ কার্যত নতুন মাত্রায় আন্দোলনের সূচনা করল। সংগঠনের প্রতিনিধি দল দুপুরে জেলা শাসকের দফতরে পৌঁছে ৯ দফা দাবি-সংবলিত বিস্তৃত স্মারকলিপি জমা দেন। কৃষি খাতে নানা অসঙ্গতি, সীমান্ত–সংক্রান্ত সমস্যায় ক্ষতি এবং শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ—এই সবকিছুরই প্রতিফলন দেখা গেল এই ডেপুটেশনে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “রাজ্যের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা এখন সীমা ছাড়িয়েছে। সরকার কৃষিক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে এবং বাজারদরে। কিষান কংগ্রেসের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় প্রায়ই ফসলহানির ঘটনা ঘটছে। মৌসুমে সার ও বীজের সংকট কৃষকদের আরও বিপদে ফেলছে।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী জমিতে স্থাপিত ফ্লাডলাইটের তীব্র তাপে ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগও নতুন নয়। দাবি তোলা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযোগ্য ক্ষতিপূরণের।সংগঠন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—“দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে আমরা বাধ্য হবো।”৯ দফা দাবির মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো: অবিলম্বে কালা শ্রম কোড বাতিল, কৃষকদের রেগার মজুরি বৃদ্ধি, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে গেট খোলার সময়সীমা বৃদ্ধি, মৌসুম শুরুর আগেই সার ও বীজের পর্যাপ্ত সরবরাহ, ফ্লাডলাইটের ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান২১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শ্রম কোড প্রয়োগকে প্রবীর চক্রবর্তী “শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থবিরোধী” বলে উল্লেখ করেন।
তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর প্রণীত প্রায় ৪০টি শ্রম আইন বাতিল করে যে চারটি শ্রম কোড চালু করা হয়েছে, তা মূলত কর্পোরেট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করে। এতে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক আইনি সুরক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন আইন কৃষকদের মতোই বেকার যুবক, অস্থায়ী শ্রমিক এবং প্রবীণ মানুষের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।প্রবীর চক্রবর্তী জানান, নতুন শ্রম কোড কার্যত ১৯৫৫ ও ১৯৫৮ সালের সাংবাদিক কল্যাণমূলক আইনকে অকার্যকর করে দেবে। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কমে আসবে।
তাঁর বক্তব্য—“সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে বড় কর্পোরেট হাউজ ও সরকারের হাতে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।”আজ শুধু রাজ্য সদর নয়, রাজ্যের আরও আটটি জেলা দফতরেও কিষান কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একই দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের লক্ষ্য, কৃষক ও শ্রমিকদের সমস্যার বিষয়ে সর্বত্র সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা।ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পর নেতৃত্বরা জেলা শাসকের দফতরের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা করেন। সভায় বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট—কৃষক ও শ্রমিকের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না।