ফের ছন্দে ত্রিপুরা তৃণমূল ? কুণাল ঘোষের সফরে কী বদলে গেল
কয়েকদিন আগেই অশান্তিতে ভরে উঠেছিল আগরতলার তৃণমূল কংগ্রেস ভবন। দলীয় পতাকা ছেঁড়া, ফ্লেক্স ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, ভাঙচুরের চিহ্ন সর্বত্র— এমন অবস্থায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল রাজ্যের তৃণমূল কার্যালয়। কিন্তু আজ, পরিস্থিতি একেবারে পাল্টে গেছে। প্রতিনিধি দল ফিরে যাওয়ার পরও নতুন উদ্যমে জেগে উঠেছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের যুব মোর্চার সভাপতি শান্তনু সাহা জানান, “প্রতিনিধি দল আসায় আমাদের মনে নতুন জোয়ার এসেছে। অফিসে আমরা নিয়মিত কাজ করছি, দলের সভা করছি, কোনও ভয় নেই।”
তাঁর কথায় স্পষ্ট, আক্রমণের ঘটনার পর যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, প্রতিনিধি দলের আগমনে তা অনেকটাই কেটে গেছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। আগরতলায় এসে তিনি নিজ হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙা সাইনবোর্ডটি ঠিক করে দেন। এটি শুধু একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়— দলের কর্মীদের কাছে এটি ছিল আত্মবিশ্বাস ফেরানোর এক দৃশ্যমান বার্তা।
স্থানীয় এক কর্মী বলেন, “আমরা যখন দেখি কুণালদা নিজে হাতে সাইনবোর্ড ঠিক করছেন, তখন মনে হয়েছিল আমাদের দল আবার বাঁচছে।”
যদিও দলের তরফে অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যে হামলা চালালেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে। প্রতিনিধি দল আগরতলায় অবস্থানকালে এই বিষয়ে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শকের (DGP) সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
দু’দিনের সফরে প্রতিনিধি দল শুধু কার্যালয় পুনরুদ্ধারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তাঁরা রাজ্যপালকে ডেপুটেশন জমা দেন এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। বিমানবন্দরে ধরনা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা প্রতিবাদও জানান। এই সব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার রাজনীতিতে আবারও তৃণমূলের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে তৃণমূল একাধিক বার্তা দিয়েছে। প্রথমত, আক্রমণের মুখে দল পিছিয়ে যাবে না। দ্বিতীয়ত, ত্রিপুরার সংগঠনকে নিয়ে দলের উচ্চ নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে। আর তৃতীয়ত, রাজ্যের কর্মীদের পাশে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আছে— এই নিশ্চয়তা কর্মীদের মনোবলকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, অফিসের ভাঙচুরের পর কয়েকদিন অনেকেই ভয়ে অফিসে আসতেন না। কিন্তু এখন চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দলের কার্যালয়ে চলছে বৈঠক, প্রচার পরিকল্পনা, সংগঠনের কাজ।
শান্তনু সাহা বলেন, “এখন কেউ ভয় পায় না। আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে লড়াই করে অধিকার আদায় করতে হয়। আর সেই লড়াই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।”
প্রতিনিধি দল ফিরে এলেও কুণাল ঘোষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ত্রিপুরার স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে। তিনি ফোন ও ভিডিও কলে সংগঠনের খোঁজ নিচ্ছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন। এক তৃণমূল কর্মীর ভাষায়, “কুণালদা যেন আমাদের পাশে আছেন, এমনটাই মনে হয় প্রতিদিন।”
আগরতলার হামলার ঘটনায় শুধু তৃণমূল নয়, অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও নিন্দা জানিয়েছে। নাগরিক সমাজের একাংশ বলছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে গণতান্ত্রিক দলীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
ত্রিপুরার তৃণমূল এখন সংগঠন পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দিচ্ছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ও ভবিষ্যতের বিধানসভা ভোটের লক্ষ্য নিয়ে দলীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। কলকাতার শীর্ষ নেতৃত্বও নানাভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এক প্রবীণ তৃণমূল নেতা বলেন, “ত্রিপুরায় আমাদের সংগঠন আগেও একবার শক্তিশালী ছিল। এখন সেই জায়গা ফেরত পেতে গেলে মাঠে নেমে লড়তে হবে। প্রতিনিধি দলের আগমন আমাদের সেই সাহস জুগিয়েছে।”
আগরতলার স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৌতূহল ও আগ্রহ দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলের এই নতুন প্রাণচাঞ্চল্য আগামী দিনে বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করতে সাহায্য করতে পারে।
ত্রিপুরার রাজনীতি বর্তমানে এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। হামলার পর যে হতাশা নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে এখন নতুন করে সংগঠনের ভিত শক্ত করতে চায় তৃণমূল। প্রতিনিধি দলের সফর যেন তাদের কাছে নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত।
দেখে নিন কী বললেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ — শুধুমাত্র আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে:
আরও ভিডিও ও লাইভ আপডেট দেখতে ভিজিট করুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেল:
Tripura News YouTube
সাবস্ক্রাইব করুন এখনই এবং প্রতিদিনের খবর পান সবার আগে।