ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করে তিপ্রা মথা দল থেকে একযোগে বহু ভোটারের বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা সামনে এসেছে। রবিবার আগরতলার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ যোগদান কর্মসূচিতে তিপ্রা মথা দলের ৫৫টি পরিবারের মোট ২৭৫ জন ভোটার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিনের কর্মসূচিতে প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে বিজেপিতে স্বাগত জানান। যোগদানকারীদের মধ্যে তিপ্রা মথার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন গুরপদ দেববর্মা ও উদিনা রুপিনি। এছাড়াও আরও পাঁচজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি এদিন বিজেপিতে যোগ দেন বলে জানা গেছে।আগরতলার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। যোগদান অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন একটি সাংবাদিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা এবং দলের মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার।সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিপিন দেববর্মা বলেন, তিপ্রা মথা দল থেকে ৫৫টি পরিবারের মোট ২৭৫ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে তিপ্রা মথার গুরপদ দেববর্মা, উদিনা রুপিনি সহ আরও কয়েকজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি জানান, এই যোগদান বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও মজবুত করবে এবং আগামী দিনে দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তুলবে।তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ক্রমশ বিজেপির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আস্থা রেখে দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও তিনি দাবি করেন।এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এডিসি নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিপিন দেববর্মা। তিনি বলেন, তিপ্রা মথা দলের সঙ্গে এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন সমঝোতা নিয়ে বিজেপির কোনও চিন্তাভাবনা নেই। বিজেপি নিজেদের শক্তির উপর ভর করেই নির্বাচনে লড়াই করবে।তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, আসন্ন এডিসি নির্বাচনে বিজেপি সবকটি আসনেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। তাঁর কথায়, “এডিসি নির্বাচনে ২৮টি আসনের মধ্যে ২৮টিতেই বিজেপি জয়লাভ করবে বলে আমরা আশাবাদী।”রাজনৈতিক মহলের মতে, তিপ্রা মথা থেকে একযোগে এত সংখ্যক ভোটারের বিজেপিতে যোগদান ত্রিপুরার রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বিশেষ করে আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের যোগদান রাজনৈতিক সমীকরণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থে এবং স্থিতিশীল প্রশাসনের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ বিজেপির প্রতি আস্থা প্রকাশ করছেন। সেই কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে কর্মী-সমর্থকেরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।তবে এই যোগদানকে ঘিরে তিপ্রা মথা দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।সব মিলিয়ে আগরতলার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই যোগদান কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে।