রবিবার রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় — খুমুলুঙ ও টাকারজলায় ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে বড়সড় যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
খুমুলুঙে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। বিশ্রামগঞ্জে এডিসি অংশকে নগর পঞ্চায়েতের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা’ বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নাম না করে তিপরা মথার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু দল শুধুমাত্র ইস্যু তৈরি করে রাজনীতি করছে, কিন্তু বাস্তব উন্নয়নের কাজে এগোচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বদলে আইন মেনে কাজ করা উচিত। কোনও আপত্তি থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক সুরসুরি দেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বিজেপি উন্নয়নকে সামনে রেখেই রাজনীতি করে।”
ত্রিপুরার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সারা দেশের মধ্যে এখন রাজ্য ‘উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো’। এক ত্রিপুরা, নতুন ত্রিপুরা গড়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথা উল্লেখ করেন।
জনজাতি মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করে মানিক সাহা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী গোটা রাজ্যের হয়, কোনও একটি সম্প্রদায়ের নয়।” বিভাজনের রাজনীতি করে রাজ্যকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিয়েও বিরোধীদের কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিরোধীদের একাধিক নোটিফিকেশন ও আপত্তির কারণেই নির্বাচন বিলম্বিত হয়েছে। পাশাপাশি ককবরক ভাষা ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পর্ষদের পরীক্ষায় রোমান হরফে লেখার সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন খুমুলুঙে ১১৩ পরিবারের ৪৮২ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।
অন্যদিকে, টাকারজলার জন্মজয়নগরেও পৃথক যোগদান সভায় ১৯৩ পরিবারের মোট ৪১৩ জন ভোটার বিজেপিতে যোগ দেন। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সহ দলীয় নেতৃত্ব।
দুটি এলাকায় এই যোগদানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।