ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তিনি বলেন, শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, মানবিকতা ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে “মানুষের মতো মানুষ” করে তোলে।বুধবার ফটিকরায় বিধানসভা এলাকায় পিএম-শ্রী হাজিবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল ভবনের উদ্বোধন করে এই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন স্কুল ভবন ছাড়াও এদিন তিনি মনু নদীর উপর ১২ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সায়দারপাড়া থেকে সারদাপল্লি পর্যন্ত ডবল লেন সেতুর শিলান্যাস এবং ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে ষষ্ঠ মিলন মেলা–২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারমুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং (PAL) পদ্ধতির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় শিক্ষানীতির অংশ।তিনি বলেন, “শিক্ষা অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। আমরা চাই স্কুলগুলির মধ্যে সুস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা গড়ে উঠুক।”তিনি আরও জানান, উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামোতেও ত্রিপুরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ফরেন্সিক ও আইন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ফলে বহিরাজ্যে পড়তে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে।সেতু নির্মাণে উপকৃত হবে হাজারো মানুষমনু নদীর উপর প্রস্তাবিত ১৪৮.২০ মিটার দীর্ঘ ও ৮.৫০ মিটার প্রশস্ত সেতু নির্মিত হলে রাতাছড়া, কাঞ্চনবাড়ি ও ফটিকরায় এলাকার প্রায় ৬-৭ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।বিশেষ করে কৃষকরা সহজেই তাঁদের উৎপাদিত ফসল কুমারঘাট বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন এবং রেলস্টেশনেও দ্রুত পৌঁছতে পারবেন।তিনি বলেন, “মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতেই আমরা এই উন্নয়নমূলক কাজ করছি। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোথাও যেন ফাঁক না থাকে, সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি।”মহিলা ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় সাফল্যমুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বসহায়ক দলের মাধ্যমে রাজ্যে ১ লক্ষ ১৮ হাজার লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি মহিলা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন।তিনি দাবি করেন, মহিলাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা এখন দেশের অন্যতম নিরাপদ রাজ্য।মিলন মেলা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যষষ্ঠ মিলন মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য ও সংস্কৃতির বন্ধনকে শক্তিশালী করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি নেশামুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, জেলাশাসক ড. তমাল মজুমদার, পুলিশ সুপার সুদাম্বিকা আর-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।