মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুলডোজার চালিয়ে আগরতলা শহরকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করল আগরতলা পুর নিগম। বুধবার দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলে এই উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানে নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন মেয়র দীপক মজুমদার।
নিগমের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলায় পথচারীদের চলাচলে বাধা এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে অভিযানের পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিভিন্ন শ্রমিক ও হকার সংগঠন নিগমের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে।
অল ত্রিপুরা নির্মাণ শ্রমিক সমিতি ও ত্রিপুরা ফুটপাত হকার সংগ্রাম সমিতির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ তোলা হয়, কোনও লিখিত নোটিশ ছাড়াই গভীর রাতে হকারদের দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি বিপ্লব কর বলেন, “হকারদের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হঠাৎ তুলে দেওয়ায় বহু পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। অবিলম্বে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী মানিক দে বলেন, “কিছুদিন পরপর উচ্ছেদ হচ্ছে, আবার কয়েকদিন পর হকাররা ফিরে আসছেন। এটা যেন ছেলেখেলা হয়ে গেছে। তারা কোনও অপরাধ করে না, পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়।”
নিগম সূত্রে জানানো হয়েছে, গত তিন দিন ধরে দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছিল যাতে রাস্তা অবরোধ না হয় এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়। নির্দেশ অমান্য করায় বাধ্য হয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
শহরের বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়া যেমন জরুরি, তেমনই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবসাস্থলের ব্যবস্থাও প্রশাসনের দায়িত্ব। নাহলে এই ধরনের অভিযানকে ঘিরে ক্ষোভ ও সমালোচনা বাড়তেই থাকবে।
ফলে, উন্নয়ন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সচেতন মহল।