ত্রিপুরার যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে রাজ্যে শীঘ্রই একটি আন্তর্জাতিক দক্ষতা কেন্দ্র এবং একটি বিদেশী ভাষা স্কুল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা জানিয়েছেন, এই দুই প্রতিষ্ঠান রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।মঙ্গলবার আগরতলার হোটেল পোলো টাওয়ারে নীতি আয়োগের ‘স্টেট সাপোর্ট মিশন’-এর অধীনে আয়োজিত তৃতীয় আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শাসনব্যবস্থা কেবল প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মূল লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং শেষ প্রান্ত পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া।তিনি জানান, স্টেট সাপোর্ট মিশন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে। রাজ্যগুলিকে শুধু বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং দেশের উন্নয়ন যাত্রার সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই মিশনের মাধ্যমে নীতি আয়োগ রাজ্যগুলিকে নীতি প্রণয়ন, ফলাফল মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।ত্রিপুরায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য এই আঞ্চলিক কর্মশালার আয়োজনকে নীতি আয়োগের আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরা সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। টিআইএফটি (Tripura Institute for Transformation) ইতিমধ্যেই নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করছে।ডাঃ সাহা জানান, যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশী ভাষা শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা রাজ্যের বাইরে বা বিদেশে সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে। পাশাপাশি, সুশাসন নিশ্চিত করতে পরিষেবা প্রদান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একটি পিপিপি সেল গঠন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ত্রিপুরার সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলির প্রশংসা করেছেন। রাজ্যের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ মডেল অন্যান্য রাজ্যের কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই জিন্দাল গ্রুপ রাজ্যে ইস্পাত শীট উৎপাদন শুরু করেছে এবং একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্যারামেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠছে, যা রাজ্যের শিল্প ও শিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমেই ত্রিপুরাকে আগামী দিনে আরও আত্মনির্ভর ও উন্নত রাজ্যে পরিণত করা সম্ভব।