ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই ঘোষণার পরেই পাকিস্তানে ভিন্ন চিত্র ধরা পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ। বহু পাকিস্তানি নাগরিক নিজেদের দেশের সামরিক ও অসামরিক নেতৃত্বের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, যেখানে ভারত কোনো রকম নতজানু না হয়েই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শুল্ক ছাড় আদায় করতে পেরেছে, সেখানে পাকিস্তান একই ধরনের সুবিধা পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
এক্স প্ল্যাটফর্মে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ ও কটাক্ষের মাধ্যমে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারী উমর আলি একটি পোস্টে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের নেতৃত্বকে শুধু নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। সেই পোস্টের সঙ্গে একটি ব্যঙ্গচিত্রও শেয়ার করা হয়, যেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে হতাশ অবস্থায় দেখানো হয়েছে এবং পেছনে নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এর আগেই ট্রাম্প ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র জানুয়ারি সংখ্যার প্রচ্ছদ শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ছবি প্রকাশিত হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানের একটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট মন্তব্য করে, গত কয়েক মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ওমান এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত, আর এখন যুক্তরাষ্ট্রও শুল্ক কমিয়েছে। তাদের দাবি, এই সাফল্য এসেছে কোনো ধরনের রাজনৈতিক তোষামোদ বা চাপ ছাড়াই।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের সমর্থকরাও বর্তমান সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। জুবায়ের আহমেদ খান নামে এক সমর্থক লিখেছেন, সরকারের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তানের উপর ১৯ শতাংশ মার্কিন শুল্ক বহাল রয়েছে, অথচ ভারতের ক্ষেত্রে তা কমে ১৮ শতাংশে এসেছে, যা পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতারই প্রমাণ। পিটিআই-এর প্রাক্তন মন্ত্রী হাম্মাদ আজহার বলেন, আধুনিক পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রদর্শনের বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক শক্তি ও বাজারে প্রবেশাধিকার অর্জনের উপর নির্ভর করে, আর সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোতেই ভারতের সেই কৌশল স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে তুলনামূলকভাবে কূটনৈতিক পিছিয়ে পড়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণে এই চুক্তির প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।