সোনামুড়া মহকুমার রাঙ্গামাটিয়া থেকে দুর্লভ নারায়ন পর্যন্ত প্রায় ৩.৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে পিডব্লিউডি (আর অ্যান্ড বি) দপ্তরের অধীনে অনুমোদিত এই কাজের লক্ষ্য ছিল রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার। তবে বাস্তবে কাজের গুণগতমান ও নিকাশি ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।অভিযোগ, প্রকল্পে গ্রাভেলিং, মেটালিং, রি-কার্পেটিং, পাকা ড্রেন নির্মাণ-সহ একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথা থাকলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না। অনেক জায়গায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি এলাকাবাসীর।স্থানীয়দের বক্তব্য, একদিকে রাস্তার ওপর পিচ ঢালা হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই পিচ উঠে যাচ্ছে। ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব ও মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বর্ষাকালে জল জমার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা। নিকাশি ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।এই পরিস্থিতিতে সিপিআইএম দুর্লভ নারায়ন অঞ্চল কমিটির পক্ষ থেকে পিডব্লিউডি সোনামুড়া সাব-ডিভিশনাল অফিসারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। সেখানে দ্রুত তদন্ত ও মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।এলাকার এক বাসিন্দার কথায়,“এই রাস্তাটার এমন নিম্নমানের কাজ আমরা কোনওদিন দেখিনি। কয়েকদিনের মধ্যেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এতে বুঝতেই পারছি কতটা খারাপভাবে কাজ হয়েছে।”স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঠিকাদারের লাভ বাড়াতেই নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে, যার খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে।এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি বিষয়টি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ, উন্নয়নের নামে যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে তার মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই।