বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন মজবুত করতে তৎপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্যে একের পর এক সফরে এসে নেতাদের সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিধায়কদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন—আগামী দু’মাসের মধ্যেই কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে, তবেই মিলবে পুনরায় প্রার্থীতার সুযোগ।এই আবহেই মঙ্গলবার বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী-সহ পর্যবেক্ষক তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। বৈঠকে বিধায়কদের সাংগঠনিক কার্যকলাপ ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।দলীয় সূত্রে খবর, ‘প্রবাস কর্মসূচি’, ‘ভোজন বৈঠক’ ও ‘উঠোন বৈঠক’-এর মতো জনসংযোগ কর্মসূচিতে কতটা সক্রিয় ছিলেন বিধায়করা, তা খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু অনেকের কাজ প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি বলেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিপ্লব দেব। বেশ কয়েকজন বিধায়কের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।তবে পরিস্থিতি সামাল দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিধায়কদের মনোবল বাড়িয়ে বলেন, বিপ্লব দেব যেখানে দায়িত্ব নেন, সেখানেই সাফল্য আসে। বাংলাতেও দল আরও শক্তিশালী ফল করবে বলেই তাঁর দাবি।বৈঠকে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে বিপ্লব দেব বলেন, একসময় সেখানে বিজেপির কোনও অস্তিত্ব ছিল না। শূন্য থেকে শুরু করে দল ক্ষমতায় এসেছে। তাই বাংলাতেও বর্তমান আসন সংখ্যা থেকে অনেক বেশি আসন জেতা সম্ভব। তাঁর কথায়, “ত্রিপুরায় যদি শূন্য থেকে সরকার গড়া যায়, তাহলে ৭৭ থেকে ১৭৭ কেন হবে না?”দিল্লির নেতাদের ঘনঘন রাজ্য সফরের মধ্যেই এই বৈঠককে নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও চাঙা করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে প্রার্থী তালিকা বা টিকিট বণ্টন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।