উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো। আর সেই পরিবর্তনেরই এক উজ্জ্বল ছবি ধরা পড়ল বৃহস্পতিবার কিল্লা ব্লকের আথারাভোলায়। জনজাতি কল্যাণ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই মানুষের ভিড়, উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশায় মুখর ছিল আথারাভোলা।এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অ্যাস্ট্রো-টার্ফ সিন্থেটিক ফুটবল মিনি স্টেডিয়াম। আধুনিক মানের এই স্টেডিয়াম স্থানীয় যুব সমাজের ক্রীড়া চর্চায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, ভার্চুয়াল মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে দশরথ দেব মেমোরিয়াল ইংলিশ মিডিয়াম মডেল স্কুল, কিল্লার সঙ্গে সংযুক্ত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এসটি ছাত্রী নিবাস, দেবতা মুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত আরও একটি ৫০ শয্যার এসটি ছাত্রী নিবাস এবং নিত্য বাজার এলাকায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্টাফ কোয়ার্টার।শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়ার মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলিতে এই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার সার্বিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।” তিনি আরও জানান, উন্নত পরিকাঠামোর মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে সকলকে যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য।শুধু উদ্বোধনেই থেমে থাকেনি দিনটি। অনুষ্ঠান পর্ব শেষ হতেই আথারাভোলার মাঠ যেন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আসরে। ধর্মীয় কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের নাচ-গান, লোকসংগীত ও পরিবেশনায় মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন দর্শকরা। উৎসবের সেই আনন্দে সামিল হন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাও। তাঁদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ যোগায়।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, রাজ্য জুড়ে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় খেলাধুলার পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। তাঁর কথায়, “ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলেই তাদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশ সম্ভব। যুবসমাজকে নেশার করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।”অন্যদিকে ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, “আগের সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র খেলার মাঠ ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।”দিনের শেষে আয়োজন করা হয় একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচেরও। জম্পুই জলা ও কিল্লা ব্লকের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ দেখার আনন্দে মাঠে ভিড় জমান বহু মানুষ।সব মিলিয়ে, উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করে আথারাভোলা। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু ইট-কাঠের পরিকাঠামো নয়, বরং এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।