আমতলী-খয়েরপুর বাইপাস সড়কে ফের এক গুরুতর পথ দুর্ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। শুক্রবার সকালে মলয়নগর নাকা পয়েন্টের সামনে ট্রাক ও বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন এক বাইক চালক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে শ্রীনগর থানার অন্তর্গত মলয়নগর বাইপাস নাকা পয়েন্ট এলাকায়। সকালে আমতলী দিক থেকে খয়েরপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি ট্রাক (নম্বর TR01 Y1669)। অভিযোগ, দ্রুত গতিতে আসা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি বাইককে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার তীব্রতায় বাইকটি রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে যায় এবং গুরুতরভাবে আহত হন বাইক চালক অঞ্জন দেব (৩৮)। তাঁর বাড়ি তোলাকোনা এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে রয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ও টিএসআর জওয়ানরা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে আনন্দনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে টিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর চোট লেগেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সঙ্গে থাকা শ্রমিকরা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। তবে এলাকাবাসীর তৎপরতায় একজনকে আটক করা হয়। পরে শ্রীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাক ও আটক ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ট্রাক চালকের নাম রাহুল মোদক। তাঁর বাড়ি জিরানিয়া এলাকায়। গাড়িটিকেও থানায় নিয়ে গিয়ে জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ট্রাকটি অতিরিক্ত গতিতে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমতলী-খয়েরপুর বাইপাস সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যান চলাচল করে। ট্রাক ও মালবাহী গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়া নজরদারির অভাবেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। নাকা পয়েন্ট এলাকায় স্পিড ব্রেকার বা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের।
এক বাসিন্দার কথায়, “এই রাস্তায় প্রায়ই ট্রাক খুব দ্রুতগতিতে চলে। আগে থেকেই ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে—বাইপাস সড়কে ভারী যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন কতটা সচেতন? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।