নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিতে এবং পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে ত্রিপুরায় আয়োজিত হলো বিশেষ সোলার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড (GIZ)-এর উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।টিএসইসিএল-এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে বিভিন্ন সোলার ভেন্ডার ও বিলিং সুপারভাইজার মিলিয়ে মোট ৫৬ জন অংশগ্রহণ করেন। মূল লক্ষ্য ছিল সোলার টেকনিশিয়ানদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, যাতে গ্রাহকদের কাছে আরও মানসম্মত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।জিআইজেড দীর্ঘদিন ধরে ভারতে নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।প্রশিক্ষণে রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি শেখানো হয়। কংক্রিটের ছাদ, টিনের চাল কিংবা খোলা জমিতে কীভাবে নিরাপদ ও শক্তপোক্তভাবে সোলার ইনস্টলেশন করা যায়, তা প্রদর্শন করা হয় আধুনিক টুলস, ডিজাইন সফটওয়্যার এবং আন্তর্জাতিক মানের সেফটি প্রটোকল অনুসরণ করে। পাশাপাশি গ্রিড-সংযুক্ত ও হাইব্রিড পিভি সিস্টেমের নকশা, ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কেও বিশদ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই কর্মশালা তাঁদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে গ্রাহকরা আরও টেকসই, নিরাপদ এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সোলার পরিষেবা পাবেন।উল্লেখযোগ্যভাবে, জিআইজেড-এর ‘সূর্য মিত্র’ স্কিলিং প্রোগ্রাম, iRISE প্রকল্প এবং ইন্দো-জার্মান সৌর অংশীদারিত্ব ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দক্ষ সোলার কর্মশক্তি তৈরি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরায় এই উদ্যোগ রাজ্যের ক্লিন ও গ্রীন এনার্জি লক্ষ্যে নতুন গতি যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।এই উপলক্ষে টিএসইসিএল-এর ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু সাধারণ মানুষকে পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনায় নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ও গ্রাহক-বান্ধব পরিষেবার মাধ্যমে এই যোজনা শুধু বিদ্যুৎ বিল কমাবে না, বরং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে আয়ের সুযোগও করে দেবে।সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ত্রিপুরায় সৌরশক্তি ব্যবহারের প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।