পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শৃঙ্খলা ভঙ্গের নিত্য অভিযোগ আবারও প্রকাশ্যে এল। রামনগর ভিলেজের রামনারায়ণ ঠাকুরপাড়া হাই স্কুলে মঙ্গলবার পরিদর্শনে গেলে একের পর এক অনিয়ম ক্যামেরাবন্দি হয়। অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিদর্শকের নিয়মিত ভিজিট না থাকায় শিক্ষকরা মর্জিমাফিক সময়ে স্কুলে আসেন, ফলে নষ্ট হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবান পাঠদিবস।বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রার্থনা সভা হওয়ার কথা। কিন্তু এদিন সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেখা মেলেনি। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রথম দু’জন শিক্ষক একটি মোটরবাইকে করে স্কুলে পৌঁছন। তাঁদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা দাবি করেন, প্রার্থনা সভা হয় ১০টা ৫৫ মিনিটে—যা ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক অনিল দেববর্মা আরও ভিন্ন সময় উল্লেখ করেন—তিনি জানান, প্রার্থনা সভা হয় পৌনে ১১টায়। তিন পক্ষের তিন রকম বক্তব্যে পরিষ্কার বুঝে যায় বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা কতটা শিথিল। প্রধান শিক্ষকের দাবি, স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ১১২ জন। অথচ সেদিন প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৬ জন।পরবর্তীতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার অনেক পরে বাইকে করে স্কুলে আসেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ—এই বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি পাহাড়ি এলাকার স্কুলেই শিক্ষকরা দেরিতে আসেন এবং আগে চলে যান। পরিদর্শনের অভাবে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চড়িলাম বিদ্যালয় পরিদর্শক উত্তম কুমার দত্ত। অভিযোগ, বিগত চার বছরে তিনি পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলোতে প্রায় কোনও ভিজিট করেননি। অফিসে বসেই কেবল শোকজ নোটিশ পাঠানো ছাড়া আর তেমন কিছু করেন না তিনি। তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিপ্লব ও পার্থকে ঘিরেও ক্ষোভ রয়েছে, যাদের অনেক শিক্ষক ব্যঙ্গ করে “ডান হাত-বাঁ হাত” বলে আখ্যা দেন।শিক্ষিত মহলের বক্তব্য, পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলোতে পরিদর্শন কার্যত বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিদর্শকের নজরদারি না থাকায় স্কুলে শৃঙ্খলা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই অবস্থার দায় নেবে কে?