চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরার ফটিকরায়ে ঘটে যাওয়া অশান্ত ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের আবেদন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। পাশাপাশি রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে শাসক বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।এক সাংবাদিক সম্মেলনে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, গোটা দেশের মতো ত্রিপুরাতেও বিভাজনের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে বিজেপি। গণতন্ত্রকে দুর্বল করে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেই ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। এর পরিণতি রাজ্যের সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।বিরোধী দলনেতার দাবি, গত সাড়ে সাত বছরে পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়া হয়েছে। গন্ডাছড়া, পশ্চিম ত্রিপুরা, পেকুয়াছড়া ও ফটিকরায়ের ঘটনাগুলি তারই উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, এই সমস্ত ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং কার্যত নীরব দর্শকের মতো আচরণ করা হয়েছে।ফটিকরায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী ভৈরব মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির বিরোধিতা থেকেই এলাকায় চরম অশান্তির সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে একের পর এক বাড়ি, দোকান ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে গৃহবন্দি হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। যদিও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।তবে ঘটনার এতদিন পরেও তদন্ত শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ধরনের গুরুতর ঘটনাকে হালকাভাবে দেখছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি ফটিকরায়ের ঘটনাকে ‘তুচ্ছ’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের পক্ষে মারাত্মক বিপজ্জনক।এদিন বিরোধী দলনেতা প্রশাসনের কাছে মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।