আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাজ্যভিত্তিক মূল অনুষ্ঠানে এ বছরও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে রাজ্য নাগরিক পুরস্কার, পূর্ণরাজ্য দিবস পুরস্কার এবং স্টেটহুড ডে অ্যাওয়ার্ড। সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, কৃষি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের প্রতি রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হবে এই বিশেষ সম্মান।
এ বছরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণার মধ্যে রয়েছে প্রয়াত শিক্ষাবিদ ধীরেন্দ্র চন্দ্র দত্তকে মরণোত্তর ত্রিপুরা বিভূষণ সম্মান প্রদান। একইভাবে রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেনকে মরণোত্তর ত্রিপুরা ভূষণ সম্মান দেওয়া হবে, যা গ্রহণ করবেন তাঁর স্ত্রী। পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার বিপ্লব গোস্বামীকেও ত্রিপুরা ভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। সংগীত ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শচীন দেববর্মণ স্মৃতি সম্মান পাচ্ছেন বিশিষ্ট লোকশিল্পী সূর্য কুমার দেববর্মা (সদাগর)। মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবী স্মৃতি সম্মান প্রদান করা হবে কামালঘাটের চম্পা দাসকে। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা ও কাজের জন্য বীরবিক্রম মেমোরিয়াল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. অরিজিৎ দাসকে স্টেট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করা হবে।
পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষ্যে স্টেটহুড ডে অ্যাওয়ার্ডের তালিকাও যথেষ্ট বিস্তৃত। সমাজসেবায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় গুড সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন পূর্ব প্রতাপগড়ের গৌতম দাস। নতুন উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ স্টার্টআপ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছে নাগিছড়ার আটকালাপা বায়োটেকনোলজি এলএলপি। কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, অ্যানিমেল হাসবেন্ডরি ও মৌমাছি পালনসহ গ্রামীণ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখিয়ে সম্মান পাচ্ছেন সালেমার ধনবাবু হালাম, সিপাহিজলার কৃষ্ণ দেববর্মা, বিশ্রামগঞ্জের রতন দেবনাথ এবং তেলিয়ামুড়ার উত্তম কুমার দাস। শিল্প ক্ষেত্রে একই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন ফটিকরায়ের দীপক দত্ত। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে সাফল্য এনে শ্রেষ্ঠ মোবাইল অ্যাপের পুরস্কার পাচ্ছেন পূর্ব যোগেন্দ্রনগরের সত্যব্রত বিশ্বাস। কো-অপারেটিভ কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে গোমতী জেলার তুলামুড়া প্যাকস লিমিটেড নির্বাচিত হয়েছে সেরা সমবায় সংস্থা হিসেবে।
শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানিত হচ্ছেন দু’জন গুণী। বিলোনিয়ার লক্ষ্মণ মালাকারকে দেওয়া হবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ সম্মান এবং নতুননগরের শ্রীপর্ণা দেবনাথ পাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদের স্বীকৃতি।
ত্রিপুরার পূর্ণরাজ্য দিবসের এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শুধু পুরস্কার বিতরণ নয়; বরং রাজ্যের প্রতিটি স্তরে নিবেদিতপ্রাণ মানুষের কাজকে স্বীকৃতি জানানোর এক গর্বের দিন। সমাজে নীরবে কাজ করে যাওয়া অসংখ্য মানুষকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নে এই সম্মানগুলো নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।