আগামী বিধানসভা অধিবেশনকে সামনে রেখে জনজাতি সমাজের উন্নয়ন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি যেন যথাযথভাবে আলোচিত হয়—এই দাবি জানিয়ে রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
রবিবার রাজভবনে গিয়ে তিনি এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, “বিধানসভায় বিস্তৃত আলোচনা ছাড়া আদিবাসী সমাজের আসল উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তাই আমাদের দাবি—অধিবেশনে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।” তিনি জানান, একই বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিধানসভার অধ্যক্ষকেও অবগত করেছেন।এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রঞ্জিত দেববর্মার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী জনসভায় দাবি করছেন যে টিটিএডিসি-কে ৬,৬৪৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোন কোন আর্থিক বছরে এই বরাদ্দ এসেছে—তার কোনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা বিধানসভায় পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতেই অন্যদিকে বিজেপি মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার দাবি—জানুয়ারির মধ্যেই তিপ্রা মথা দলের বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন এবং তিপ্রা মথার এমডিসি ও বিধায়করা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।বিকাশ দেববর্মার বক্তব্যের পাল্টা জবাবে রঞ্জিত দেববর্মা কড়া ভাষায় বলেন,“এই ধরনের মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুনে কি মনে করেন না যে রাজ্যে সত্যিই আইনের শাসন আছে?
রাজ্যের উত্তেজনার জন্য দায়ী কে, তা সরকারকেই দেখতে হবে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে কোনও অশান্তি তৈরি হলেই তিপ্রা মথা দলের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়, অথচ তাদের কর্মীদের উপর পূর্বেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রঞ্জিত দেববর্মা বলেন,“২০২১-এও আমরা এককভাবে লড়েছি, ২০২৩-এও লড়েছি। এবারও নির্বাচন ঘোষণা হোক—তারপর দেখা যাবে।”সমগ্র ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের নতুন করে উত্তেজনা ও তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।