দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুঙ্গিয়াকামি রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করল আগরতলা–শিলচর এক্সপ্রেস ট্রেন। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫৬৬৩/১৫৬৬৪ নম্বর আগরতলা–শিলচর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির সূচনা হওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে মুঙ্গিয়াকামি সহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মুঙ্গিয়াকামি রেল স্টেশনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী তথা ২৯ নম্বর কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মা, সাংসদ কৃতি সিং, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
উল্লেখ্য, মুঙ্গিয়াকামি স্টেশনে আগরতলা–শিলচর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার সাধারণ মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল। সেই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিত আবেদন জানান। মন্ত্রীর সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ভারত সরকারের রেল দপ্তর থেকে মুঙ্গিয়াকামি স্টেশনে ট্রেন থামার অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “এটি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। জনগণের স্বার্থে আমি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। আজ সেই চিঠির সুফল মিলেছে। এই যাত্রাবিরতির ফলে মুঙ্গিয়াকামি এবং আশপাশের এলাকার মানুষ আগরতলা ও শিলচরের সঙ্গে আরও সহজ ও নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই নতুন যাত্রাবিরতির ফলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এই ট্রেন যাত্রাবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সব মিলিয়ে, আগরতলা–শিলচর এক্সপ্রেস ট্রেনের মুঙ্গিয়াকামি স্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু হওয়া এই অঞ্চলের উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।