বিশালগড়ের উত্তর রাউৎখলা এলাকায় এক নাবালিকাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একটি নাবালিকার সঙ্গে সম্পর্ক, পরিচয় গোপন এবং পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তর রাউৎখলার বাসিন্দা আতিকুল ইসলামের পুত্র মোবারক ইসলাম, যিনি রাকিব নামেও পরিচিত এবং একজন উদীয়মান ক্রিকেটার বলে পরিচয় দেন, তিনি নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে এক হিন্দু নাবালিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে নাবালিকার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে অসদাচরণের চেষ্টা করে।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নাবালিকার কাকা বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে কয়েকজন পরিচিতকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে উত্তর রাউৎখলায় যান। তবে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।পরিবারের দাবি, সেই সময় অভিযুক্ত মোবারক ইসলাম ওরফে রাকিব দলবল নিয়ে নাবালিকার কাকা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুর উপর আচমকা হামলা চালায়। এই হামলায় দু’জন গুরুতরভাবে আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবহৃত গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।ঘটনার খবর পেয়ে বিশালগড় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।এই ঘটনার পর রাতেই নাবালিকার বাবা বিশালগড় থানায় অভিযুক্ত মোবারক ইসলাম ওরফে রাকিবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে নাবালিকার সঙ্গে প্রতারণা, অসদাচরণের চেষ্টা, মারধর এবং ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার পর উল্লেখযোগ্য সময় কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত যুবক সহ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্য কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তে গড়িমসি করছে। এমনকি অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর রাউৎখলা এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।যদিও অভিযোগকারীদের তরফ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, তবে এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, অথবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলের। নাবালিকা সংক্রান্ত এই গুরুতর অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।