আগরতলায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর অভিযোগ, টানা কয়েক দশক ধরে বামফ্রন্টের শাসন এবং পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নেতৃত্ব—উভয় মিলেই পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করেছে বামফ্রন্ট ও টিএমসি—একই পাটিগণিতের দুই দিক।”বিপ্লব দেবের দাবি, রাজ্যের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভ্রান্ত নীতি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত প্রশাসনের কারণে পশ্চিমবঙ্গ আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে রাজ্যে শিল্পক্ষেত্র ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। “প্রায় সাত হাজার ছোট-বড় কারখানা রাজ্যের নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালিয়েছে,” বলেন তিনি। এই পরিস্থিতির জেরে দেড় কোটি যুবক নিত্য জীবিকার খোঁজে অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন সাংসদ।টিএমসির বহুল প্রচারিত ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিপ্লব দেবের বক্তব্য, এই স্লোগান রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক বদল আনতে পারেনি। তিনি বলেন, “একসময় পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় কোষাগারে ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব দিত। আজ সেই অবদান নেমে এসেছে এক অঙ্কে। কমিউনিস্ট শাসনের ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে তৃণমূল সরকার আরও ক্ষতি করেছে।”অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে সাংসদ দেব বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ঋণের বোঝা এখন চরমে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ ২০২৫ সালের হিসাবে দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বিপ্লব দেব বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর মাথায়ই জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই ৭৭ হাজার টাকার ঋণ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাথাপিছু আয় মাত্র ১ লাখ ২৯ হাজারের মধ্যে, অথচ ঋণ দ্বিগুণের বেশি—এটা কোন অর্থনীতি?”শুধু অর্থনীতি নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অপরাধ দমনে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট। “রাজ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার এখনো এক অঙ্কে আটকে আছে। পুলিশ তদন্ত ঠিকমতো করে না, বিচার পাওয়া যায় না”—এমন বক্তব্য রাখেন তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজ্যে শাসকেরা জনস্বার্থ নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়লেও রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটেছে।বিপ্লব দেব দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছেন এবং বিজেপিকে পাশে পাচ্ছেন। “২০২১ সালের পর থেকেই জনমতের স্রোত বদলেছে। মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, আর বিজেপি তাদের কণ্ঠ হয়ে উঠছে,” মন্তব্য করেন তিনি।আগরতলায় তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এই তীব্র পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে রাজ্য–রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।