চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক গাড়িচালকের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা। ফটিকরায় এলাকায় সাম্প্রতিক যে অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।ঘটনার সূত্রপাত ফটিকরায় থানার অন্তর্গত কাঞ্চনবাড়ি মেইন রোডের সায়দারপার ভৈরব থলি এলাকায়। আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ভৈরব মেলা। সেই মেলাকে ঘিরে চাঁদা তোলার সময় মেলা কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কাঠবোঝাই গাড়ির মালিক মসব্বির আলীর বচসা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে কথাকাটাকাটি হলেও পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষের রূপ নেয়।অভিযোগ, ওই বচসার জের ধরেই মসব্বির আলী ও তাঁর গাড়ির চালকের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতার একাংশ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, মারধর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা বলেন, “বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা ক্রমশ বাড়ছে। চাঁদাবাজির নামে সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ কখনওই বরদাস্ত করা যায় না।” তাঁর মতে, এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ব্যর্থতাকে তুলে ধরছে।বিধায়ক আরও বলেন, “এই ধরনের বর্বর ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের সামনে আনা।” পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কড়া নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।এদিকে ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টহল বাড়িয়েছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তবুও এই ঘটনায় জনমনে যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।