কাঞ্চনপুরে শনিবার কার্যত রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহের মিলিত চিত্র ধরা পড়ল। দুপুর আনুমানিক ১২টা নাগাদ নতুন মোটরস্ট্যান্ড প্রাঙ্গণে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে এক বিশাল প্রকাশ্য জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহার উপস্থিতিতে গোটা সভাস্থল গেরুয়া পতাকা, স্লোগান ও বিপুল জনসমাগমে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।এই জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, মন্ত্রী টিংকু রায়, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী মোহন ত্রিপুরা, বিজেপি নেতা বিপিন দেববর্মা, জনজাতি মোর্চার প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক স্বপন রায় রিয়াং, উত্তর জেলার সভাপতি কাজল দাস, কাঞ্চনপুর মণ্ডল সভাপতি বীরেন্দ্র কর সহ দলের একাধিক শীর্ষ ও স্থানীয় নেতৃত্ব। উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ।মঞ্চ থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির কথা। আগামী দিনেও উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের জনজাতি উন্নয়ন প্রসঙ্গে জোরালো দাবি করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সর্বত্র জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। বিভাজনের রাজনীতি থাকলেও জনজাতি সমাজ বুঝে গেছে যে প্রকৃত উন্নয়ন একমাত্র বিজেপি সরকারের হাত ধরেই সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, গত দুই দশকে রাজ্যে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বর্তমানে প্রায় ৮.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্যের প্রমাণ।এই জনসভায় রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার হাত ধরে সিপিআই(এম), আইপিএফটি ও ত্রিপুরা মথা দল ছেড়ে ৩৩৮টি পরিবারের মোট ৭৫৯ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান বিজেপি নেতৃত্ব। এই যোগদানকে সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।এদিন সকাল থেকেই কাঞ্চনপুর ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ জনসভায় যোগ দিতে আসেন। শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গোটা কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জনসমাবেশ ও গণযোগদান কাঞ্চনপুরে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এবং জনভিত্তিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরল।