হেজারামায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলাকারীদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।প্রসঙ্গত, শুক্রবার সিমনা বিধানসভা এলাকার হেজারামা অঞ্চলে বিজেপি কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, নির্মাণ কাজ চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়। এই হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান দুই বিজেপি কর্মী। তাঁদের দ্রুত জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু হিংসা ও সন্ত্রাস কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ সকালেও তিপরা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো তথা এমডিসি প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মণের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। তবে এই হামলার ঘটনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।রাজ্য সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।এদিকে, ঘটনার পর থেকে হেজারামা এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আহত বিজেপি কর্মীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।