নারীর ক্ষমতায়নই কোনো দেশ বা রাজ্যের প্রকৃত উন্নতির মাপকাঠি— এমনই মন্তব্য করলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। মোহনপুর আরডি ব্লকে অনুষ্ঠিত ‘নয়া চেতনা জাতীয় অভিযান ৪.০’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নারীরা এগিয়ে গেলে তবেই সমাজ, রাজ্য এবং দেশ প্রকৃত অর্থে উন্নত হয়।মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর হাত ধরে ‘নয়া চেতনা ৪.০’ কর্মসূচির সূচনা হয়। এই অভিযান শীঘ্রই সমাপ্তির পথে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।‘নয়া চেতনা’ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মূল ভাবনা হলো নতুন চিন্তা, নতুন উদ্যোগ ও নতুন দিশা। গ্রামীণ ভারতের প্রেক্ষাপটে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা, বৈষম্য, নারীর নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই এই জাতীয় অভিযানের সূচনা করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোনো দেশ বা রাজ্যের উন্নতি কেবল রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ভবন নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র ফুটে ওঠে তখনই, যখন নারী ও কন্যাশিশুরা সমানভাবে অগ্রসর হয় এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার নারী, দরিদ্র, যুবক এবং কৃষকদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকার কখনও ধর্ম বা জাতিভিত্তিক বিভাজন করে না। সকলকে সঙ্গে নিয়ে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।স্থানীয় উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আমলে মোহনপুর ব্লকে ১,০২৪টি সেলফ হেল্প গ্রুপ গঠিত হয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০,২০০ জন সদস্য। এছাড়াও ৫৪টি গ্রাম সংস্থা গড়ে উঠেছে। তিনি পঞ্চায়েত প্রধানদের আহ্বান জানান, সেলফ হেল্প গ্রুপগুলির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে।মন্ত্রী জানান, মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতেই সরকার জোর দিচ্ছে সেলফ হেল্প গ্রুপের ওপর। এর ফলস্বরূপ আজ বহু মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ত্রিপুরা রাজ্যে বর্তমানে ১.০৮ লক্ষ লাখপতি দিদি রয়েছেন, যার মধ্যে মোহনপুর ব্লকেই রয়েছেন ১,৫২৩ জন মহিলা।