দেরাদুনে ত্রিপুরার এমবিএ ছাত্র আঞ্জেল চাকমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুণগো মঙ্গলবার জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডে বসবাসরত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে কানুণগো বলেন, দেরাদুনে ত্রিপুরার এক ছাত্রের হত্যার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্য সচিব ও ডিএজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে আগত ছাত্রদের নিরাপত্তা রাজ্যের সর্বত্র সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনে আঞ্জেল চাকমার ওপর কিছু দুর্বৃত্ত ছুরি ও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর, যাদের সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ষষ্ঠ অভিযুক্ত, এক নেপালি নাগরিক, এখনও পলাতক। তার গ্রেফতারের জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।এদিকে, উত্তরাখণ্ড সরকার জানিয়েছে যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজ্যে বসবাসরত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মদতেই সমাজে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ।লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশে “ঘৃণাকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।” এক্স-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, দেরাদুনে আঞ্জেল চাকমা ও তার ভাই মাইকেলের ওপর হামলা একটি ভয়াবহ ঘৃণাজনিত অপরাধ, যা দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত বক্তব্য ও কনটেন্টের ফল।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, আঞ্জেল চাকমা জাতিগত অসদাচরণের শিকার হয়ে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী নিহত ছাত্রের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আঞ্জেল চাকমার বাবা তরুণ প্রসাদ চাকমাকে প্রথম কিস্তিতে ৪,১২,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা ১৯৮৯ সালের নির্যাতন প্রতিরোধ আইন এবং ১৯৫৫ সালের সিভিল রাইটস সুরক্ষা আইনের আওতায় দেওয়া হয়েছে।