কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরা কৃষি দপ্তর ও নাগপুরের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ সয়েল সার্ভে (এনবিএসএস)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (মৌ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যের তিনটি জেলার চাষযোগ্য জমির ওপর গভীর ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা হবে।বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে ‘ভূ-স্থানিক কৌশল ব্যবহার করে ত্রিপুরার ভূমি সম্পদ তালিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধন করে এই তথ্য জানান কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
তিনি বলেন, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জমি সংক্রান্ত নির্ভুল তথ্য ও গবেষণা। জমিই কৃষির মূল ভিত্তি, এরপর আসে উন্নত বীজ, পর্যাপ্ত জল ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি।মন্ত্রী জানান, তিন বছর আগে রাজ্যে জমির বিভিন্ন স্তর বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ ও গোমতি জেলা নির্বাচন করা হয়েছিল। এনবিএসএস-এর মাটিবিজ্ঞানীরা ওই জেলাগুলির সমীক্ষা সম্পন্ন করে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
পরবর্তীতে উত্তর, ধলাই ও উনাকোটি জেলার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয় এবং এদিন সেই সমীক্ষা রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। পশ্চিম, সিপাহিজলা ও খোয়াই জেলা এখনও এই প্রকল্পের আওতায় আসেনি।রতন লাল নাথ বলেন, পূর্বে এই ধরনের সুসংহত ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা আগেও বলা হলেও কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। মাটির গুণমান অনুযায়ী কোন অঞ্চলে কোন ফসল—যেমন পাম অয়েল, রাবার, মিলেট বা ধান—চাষ উপযোগী, সে বিষয়ে মাটিবিজ্ঞানীরা দিকনির্দেশ দেবেন।
অতীতে নাগিছড়ায় পাম অয়েল চাষের চেষ্টা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।মন্ত্রী আরও জানান, সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মাটিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যাতে কৃষকরা বৈজ্ঞানিক পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করতে পারেন।
সরকারের লক্ষ্য শতভাগ সফলতা অর্জন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্লকের সংখ্যা ২২ থেকে বেড়ে ৩০-এ দাঁড়িয়েছে এবং চলতি বছরে আরও পাঁচটি ব্লক যুক্ত হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্যের জন্য জিআই ট্যাগ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিভাগের সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা ফণী ভূষণ জামাতিয়া, স্টেট নোডাল অফিসার ড. উত্তম সাহা সহ কৃষি দপ্তরের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।