ত্রিপুরার রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা ছড়াল ককবরক ভাষা ও তার লিপি সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে। শনিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা ও উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের শরিক দল তিপরা মথা। দলের অভিযোগ, বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের জনজাতি অংশের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে না।
রবিবার তিপরা মথা দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দেন, ককবরক ভাষা রোমান হরফে চালু করার দাবিতে তারা কোনোভাবেই আপস করবে না। এই দাবি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং জনজাতি সমাজের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকারের প্রশ্ন বলেই তারা মনে করছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিপরা মথা নেতৃত্ব বলেন, বহু দশক ধরেই ককবরক ভাষাভাষী জনগণ রোমান হরফে ককবরক চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। অথচ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট সরকার সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। সেই সময়েও ককবরক ভাষার লিপি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তিপরা মথা নেতাদের বক্তব্য, বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর তারা আশা করেছিলেন নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে উপজাতি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষায় বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কার্যকলাপে সেই আশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেই তাদের দাবি।
দলের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার একটি দলীয় যোগদান সভায় দেওয়া মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়। তিপরা মথার অভিযোগ, ওই মন্তব্য জনজাতি ভাষার বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তারা মনে করছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়কে অবমূল্যায়ন করার শামিল।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিপরা মথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ককবরক ভাষাকে রোমান হরফে চালু করার দাবিতে তারা আন্দোলনে অবিচল থাকবে। প্রয়োজনে গণআন্দোলনের পথেও যাওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন দলের নেতারা। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে অবিলম্বে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
তিপরা মথার মতে, ককবরক শুধু একটি ভাষা নয়, এটি রাজ্যের জনজাতি সমাজের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ভাষার লিপি নির্ধারণে জনজাতি সমাজের মতামতকে উপেক্ষা করা হলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা আরও বলেন, রোমান হরফে ককবরক চালু হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার সহজ হবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষার প্রসার ঘটবে।
এই ভাষা বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ককবরক ভাষার লিপি ইস্যু আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শরিক দল তিপরা মথার এই কড়া অবস্থান সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। ককবরক ভাষার রোমান হরফে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আগামী দিনে আরও আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।