চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন রতি রঞ্জন ত্রিপুরা, যিনি বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই প্রতারণা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রতি রঞ্জন ত্রিপুরার বাড়ি তৈবান্দাল শুকনাছড়া এলাকায়। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি তিপরা মথা দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সময় ও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন।
শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে এবং একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় জনজাতি এলাকার বহু মানুষ তাঁর ওপর আস্থা রাখতেন। অভিযোগ, সেই আস্থাকেই পুঁজি করে তিনি চাকরি দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন।
এই ঘটনায় প্রথম প্রকাশ্যে অভিযোগ এনেছেন মোহনভোগ চন্দুল এলাকার বাসিন্দা অরুণ নোয়াতিয়া। সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান, তাঁর ছেলে রাকেশ নোয়াতিয়াকে রাজ্যের খাদ্য দপ্তরে চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন রতি রঞ্জন ত্রিপুরা।
সেই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তিনি অরুণ নোয়াতিয়ার কাছ থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ও গাড়ি ভাড়ার অজুহাতে আরও ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।অরুণ নোয়াতিয়ার দাবি, টাকা দেওয়ার পর একাধিকবার তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
শুরুতে নানা অজুহাতে সময় নষ্ট করা হয় এবং বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তাঁর ছেলের চাকরির কোনও অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত কেবল তারিখের পর তারিখ দিতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন।অরুণ নোয়াতিয়া আরও জানান, তাঁর মতো আরও অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা চাকরির আশায় নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তুলে দিয়েছেন। অনেকেই আর্থিকভাবে দুর্বল এবং জনজাতি এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সহজেই অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করেছিলেন।
তাঁদের অভিযোগ, শাসক দলের বড় বড় নেতাদের নাম ব্যবহার করে রতি রঞ্জন ত্রিপুরা তাঁদের বোঝান যে চাকরি পাওয়া নিশ্চিত।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, চাকরি দেওয়ার নামে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বর্তমানে অভিযুক্ত অস্বাভাবিকভাবে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠেছেন।
তাঁর জীবনযাত্রার মানে হঠাৎ পরিবর্তন আসায় এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অরুণ নোয়াতিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত রতি রঞ্জন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং প্রতারিত মানুষদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
জানা গেছে, খুব শীঘ্রই ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন।এদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে সম্প্রতি রতি রঞ্জন ত্রিপুরা আবার তিপরা মথা দলে যোগ দিয়েছেন।
যদিও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ভবিষ্যতেও তিনি একই ধরনের প্রতারণামূলক কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
তাই দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।তবে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত রতি রঞ্জন ত্রিপুরার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এখন দেখার, এই অভিযোগের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদৌ কি প্রতারিত মানুষরা ন্যায়বিচার পান।।