ত্রিপুরার ক্রীড়াঙ্গনে ফের নতুন আলো ছড়াল মণীশঙ্কর মোরা সিং। ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ আইপিএলের নিলাম-প্যানেলে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। বহু প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানের লিগে ত্রিপুরা থেকে খুব কম খেলোয়াড় ওঠার কারণে এই সাফল্যকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ ক্রীড়াচর্চার বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সকলে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিনন্দন জানিয়েছেন ত্রিপুরার সাংসদ জিতেন চৌধুরী। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র মণীশঙ্করের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং ত্রিপুরার হাজার হাজার কিশোর-তরুণের স্বপ্নকে ডানা মেলতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “একজন ত্রিপুরাবাসী তরুণ যখন আইপিএলের নিলামে জায়গা করে নেয়, সেই ঘটনা গোটা রাজ্যের ভাবনা পাল্টে দেয়। আমরা চাই—তিনি যেন কোনও দলের নজরে পড়েন এবং মাঠে নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পান।”
জিতেন চৌধুরীর কথায় উঠে এসেছে রাজ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও। তাঁর মন্তব্য, “ত্রিপুরার চল্লিশ লক্ষ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। যে দিন আমরা বলতে পারব—‘হ্যাঁ, আমাদের রাজ্য থেকেও কেউ আইপিএলের মঞ্চে খেলছে’, সে দিনটা ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে।”
ত্রিপুরা বরাবরই ক্রীড়াপ্রিয় রাজ্য। ফুটবল থেকে ভলিবল, জিমন্যাস্টিক্স থেকে অ্যাথলেটিক্স—বিভিন্ন খেলায় অসংখ্য প্রতিভা উঠে এসেছে এখান থেকে। কিন্তু ক্রিকেটে বড় কোনও মঞ্চে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত। তাই মণীশঙ্করের অন্তর্ভুক্তি যেন এই সীমাবদ্ধতার শিকল প্রথমবার ভাঙতে চলেছে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিএলের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বের লিগে নিলাম-প্যানেলে থাকা মানেই প্রতিভার স্বীকৃতি। মণীশঙ্করের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রম তাঁকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যদি নিলামে কোনও দল তাঁকে সুযোগ দেয়, তবে তা তাঁর ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ত্রিপুরার ক্রিকেট পরিকাঠামোর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় এখন থেকেই দেখা যাচ্ছে কিশোর-তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা। স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমিগুলোর কোচরা জানিয়েছেন, মণীশঙ্করের সাফল্যের খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অনেক নতুন শিক্ষার্থী যোগদানের আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের বিশ্বাস—কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা থাকলে ত্রিপুরা থেকেও আন্তর্জাতিক মানের লিগে সুযোগ পাওয়া অসম্ভব নয়।
সাংসদ জিতেন চৌধুরীও এই দিকটিই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “খেলাধুলা শুধু শরীর নয়—মানসিক শক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। মণীশঙ্করের এই পথচলা তরুণদের জীবনবোধেও নতুন দিশা দেবে।”
মণীশঙ্করের অন্তর্ভুক্তিকে ত্রিপুরার ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন এবং ক্লাবগুলোর সদস্যরা মনে করছেন, এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে—সঠিক পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও প্রয়াস থাকলে ত্রিপুরার খেলোয়াড়রাও জাতীয় মঞ্চে উজ্জ্বল হতে পারে।
স্থানীয় ক্রীড়া মহলের কথায়, এতদিন যে জায়গাটিকে দূরস্বপ্ন বলা হতো—এখন তা হাতের নাগালের বাস্তবতা। শিশু-কিশোরদের মধ্যে আইপিএলের মতো মঞ্চে পৌঁছানোর নতুন ইচ্ছে তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের স্পোর্টস সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
সবাই একবাক্যে আশা করছেন—নিলামে কোনও দল যেন মণীশঙ্করকে সুযোগ দেয়। সেই দিনটি ত্রিপুরার জন্য উৎসবের হবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুযোগ পেলে তিনি নিজের স্বাভাবিক স্টাইলেই দলের কাজে লাগতে পারবেন। বড় মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্স ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।
রাজ্যের বিভিন্ন মহল বলছে—ত্রিপুরার খেলাধুলার স্বপ্নপথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মণীশঙ্করকে ঘিরে এখন যে আশার সঞ্চার হয়েছে, তা রাজ্যের ক্রীড়াব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
অবশেষে, রাজ্যের মানুষের আকাঙ্ক্ষা একটাই—মণীশঙ্কর যেন আরও দূর এগিয়ে যান, আইপিএলের মাঠে ত্রিপুরার পতাকা উড়িয়ে দেন এবং ভবিষ্যতের তরুণদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগান।