পরের বছরের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) কোন মাঠে নিজেদের হোম ম্যাচ খেলতে পারবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলছিল ক্রিকেটমহলে। বিশেষ করে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে গত বছর পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগিতামূলক খেলা বন্ধ রাখায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল কর্নাটক মন্ত্রিসভা—চিন্নাস্বামীতেই ফিরছে আইপিএল, তবে কঠোর শর্ত মেনেই আয়োজন করতে হবে ম্যাচ।কর্নাটকের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, চূড়ান্ত অনুমতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। বিচারপতি জন মাইকেল ডি’কুনহার নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ ১০০ শতাংশ মানতে হবে—এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রীরা। অর্থাৎ নিরাপত্তা, নিষ্ক্রমণ ব্যবস্থা, নজরদারি, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ—সব কিছুতে স্টেডিয়ামকে নতুন মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বলেন,“আমরা চাই আইপিএলের ম্যাচ এই রাজ্যেই হোক। বেঙ্গালুরু আমাদের গর্ব। তবে যা আগে হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরকে ক্রিকেট সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”গত বছরের দুর্ঘটনার পর বিচারপতি ডি’কুনহার রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—বর্তমান অবকাঠামো বড় মাপের জনসমাগম সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে ম্যাচ আয়োজনকে ‘জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেই আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই এতদিন আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া—কোনও ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলা হয়নি ঐ মাঠে।তবে এবার পরিস্থিতির বদল ঘটাতে এগিয়ে এসেছে কর্নাটক সরকার। স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত ফিটনেস পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুর পূর্ত দফতর কেএসসিএ-কে জানিয়ে দিয়েছে যে সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ (NABL) এর বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে। তারা কঠোর মানদণ্ডে মূল্যায়ন করবেন, চিন্নাস্বামী মাঠ সত্যিই ম্যাচ আয়োজনের উপযুক্ত কিনা।শিবকুমার আরও বলেন,“আমরা আইপিএলকে অন্য রাজ্যে চলে যেতে দিতে পারি না। এই প্রতিযোগিতা কর্নাটকের মর্যাদা, এবং বেঙ্গালুরুর মানুষের আবেগ। তবে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়। ভবিষ্যতের প্রতিটি অনুষ্ঠান এমনভাবে করতে হবে যাতে শহর আরও গর্বিত হয়।”প্রসঙ্গত, গত বছর আরসিবির আইপিএল জয় উদ্যাপন করতে গিয়ে স্টেডিয়াম চত্বরে ব্যাপক ভিড়ের সৃষ্টি হয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা। তারপরই স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং গঠন করা হয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। সেই ঘটনার পর থেকেই আরসিবির হোম ভেন্যু নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল সমর্থকদের মধ্যে।তবে সরকারের সদর্থক অবস্থান এবং নতুন নিরাপত্তা নীতিমালার প্রতিশ্রুতি বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রশাসন বিশ্বাস করে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম আবারও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনের যোগ্য হয়ে উঠবে।সব মিলিয়ে বলা যায়, শর্ত সাপেক্ষে মিলেছে সবুজ সংকেত। এবার নজর থাকবে কেএসসিএ-র দিকে—তারা কত দ্রুত সুপারিশগুলি বাস্তবায়ন করতে পারে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্টে উত্তীর্ণ হয়। যদি সব পরীক্ষায় পাস করা যায়, তবে আগামী বছরের আইপিএলে আরসিবি নিজেদের ঘরের মাঠে ফের সমর্থকদের সামনে নামতে পারবে। আর সেটাই এখন বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট অনুরাগীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।