উত্তরপ্রদেশের বাদাউন জেলার বিয়র কাসিমাবাদ গ্রামে ঘটল এক অনন্য ঘটনা। শুদ্ধ ভক্তির আবেগে, যেন আধুনিক যুগের মীরাবাই হয়ে, ২৮ বছরের পিঙ্কি শর্মা স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে।
গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজে সম্পন্ন হয় এই ব্যতিক্রমী বিয়ে।ইসলামনগর থানার অন্তর্গত পরিবারে বড় হওয়া পিঙ্কি—শিক্ষাগতভাবে স্নাতকোত্তর—জীবনের সঙ্গী হিসেবে মানুষের বদলে বেছে নিয়েছেন কৃষ্ণমূর্তিকে।
শনিবার ঐতিহ্যবাহী সব রীতি মেনে কৃষ্ণঠাকুরকে বিয়ে করেন তিনি, আর পরদিন পালিত হয় কন্যাবিদায়। কোলে কৃষ্ণের মূর্তি নিয়ে সাত পাক ঘোরার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন গ্রামের মানুষজন।পিঙ্কির বাবা সুরেশ চন্দ্র জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে গভীর কৃষ্ণভক্ত।
কিছুদিন আগে বৃন্দাবনে একটি ‘অলৌকিক অভিজ্ঞতার’ পর মেয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়—সে মানুষকে নয়, আজীবনের সঙ্গী হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকেই গ্রহণ করবে। পরিবারও সম্মান জানিয়েছে তার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে।বিয়ের পর নিজেকে ‘শ্যামের স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পিঙ্কি বলেন, “শিক্ষার মূল্য আছে, কিন্তু আমার শান্তি আছে কৃষ্ণের ভক্তি আর আত্মসমর্পণে।”
ভারতের চৈতন্যভক্তি ও মীরাবাইয়ের ঐতিহ্য যেন নতুন করে মনে করালেন এই তরুণী।গ্রামবাসীও সাক্ষী থাকল এমন এক বিয়ের, যেখানে ভক্তি ছিল বিয়ের আলোর প্রধান সুর।
পিঙ্কি শর্মার এই সিদ্ধান্ত সমাজের প্রচলিত ধারার বাইরে হলেও, তার ভক্তি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সামনে পরিবার ও গ্রাম দু’ই নতি স্বীকার করেছে। মানুষের সম্পর্কের বাইরে ঈশ্বরের প্রতি নিষ্ঠা ও আত্মসমর্পণকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে পিঙ্কি যেন ভক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আধুনিকতার যুগেও আধ্যাত্মিকতার এই একান্ত পথচলা সমাজকে মনে করিয়ে দিল—বিশ্বাস ব্যক্তিগত, আর ভক্তির ভাষা অনন্ত।